
SANGUR, PUNJAB
|THU, OCT 14, 2021
নারী-স্বাস্থ্য বিষয়ক পারি’র কাহিনি সংকলন
দেশের আনাচকানাচ থেকে উঠে আসা এই কাহিনিগুলি আদতে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক পারির এক চলমান সিরিজের অন্তর্গত। সন্তানহীনতা ঘিরে সামাজিক কলঙ্ক, গর্ভনিয়ন্ত্রণের যাবতীয় দায় মহিলাদের উপর আরোপ, পরিবার পরিকল্পনায় ‘অংশগ্রহণে পুরুষের অনীহা', গ্রামীণ স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার বেহাল দশা এবং যেটুকু আছে তা-ও নাগালের বাইরেই থেকে যাওয়া, অপ্রশিক্ষিত চিকিৎসক, ঝুঁকিপূর্ণ প্রসব, মাসিক ঋতুস্রাব ঘিরে মেয়েদের সঙ্গে বৈষম্য, পুত্রসন্তানের অশেষ আকাঙ্ক্ষা এবং এমন আরও অনেক কিছু মিলিয়ে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য এক বহুমাত্রিক, জটিল এবং ব্যাপক বিষয়। স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত কুসংস্কার এবং অভ্যাস, মানুষ এবং সমাজ, লিঙ্গ এবং অধিকার, গ্রামীণ ভারতে মহিলাদের দৈনন্দিন সংগ্রাম এবং মাঝে মাঝে জোনাকির মতো জ্বলে ওঠা ছোটো ছোটো জয়গাথা সংকলিত হয়েছে এই সিরিজে।
Author
Translator
50. ঘন তিমিরেই পড়ে আছে ওয়াজিরিথলের স্বাস্থ্যসেবা
জম্মু ও কাশ্মীরের বান্দিপোর জেলার একটি পাণ্ডববর্জিত গ্রামে খাপছাড়া বিদ্যুৎ সংযোগ ও নড়বড়ে জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ফলে নাভিশ্বাস উঠছে গর্ভবতী মহিলাদের। তাঁদের একমাত্র ভরসা গ্রামের বৃদ্ধা জন্মধাত্রী
49. ঔদাসীন্যের ধোঁয়াশায় মহিলা বিড়ি শ্রমিকদের স্বাস্থ্য
মুর্শিদাবাদ জেলা জুড়ে সমাজের প্রান্তিকতম মহিলা বিড়ি শ্রমিকেরা উদয়াস্ত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে চলেছেন। বিনিময়ে মজুরির নামে যা মিলছে, তাকে পরিহাস ছাড়া কিছু বলা যায় না। পেশার দায়ে লাগাতার গুঁড়ো তামাকের মশলার সংস্পর্শে থেকে তাঁদের প্রজননসহ সামগ্রিক স্বাস্থ্যই চরম বিপন্ন হয়ে উঠেছে
48. এ দেশ নয় রজঃস্বলা মেয়েদের
উত্তরাখণ্ডের উধম সিং নগর জেলায় মাহিলাদের জবানে উঠে এল সমাজে গেঁড়ে বসে থাকা কিছু কুসংস্কার ও নারকীয় কষ্টের কথা, যার ভারে নাজেহাল হয়ে যাচ্ছে ঋতুমতী মেয়ে ও প্রসূতিদের জীবন
47. ‘ওই বোলেরো গাড়ির ভিতরেই আমার বাচ্চাটা জন্মালো’
হাতের নাগালে চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র না থাকার ফলে প্রসূতি স্বাস্থ্যের বেহাল অবস্থার জেরে নাজেহাল হিমাচল প্রদেশের গ্রামীণ এলাকার মহিলারা
46. আসুন্দির দলিত মহিলারা একাকী সয়ে চলেছেন অসহ্য জ্বালা-যন্ত্রণা
নামমাত্র মজুরি ও পুষ্টিহীন আহারের ফলে শরীর-স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ছে হাভেরি জেলার আসুন্দি গ্রামের মহিলাদের। উপরন্তু ঋতুস্বাস্থ্য যাঁদের এমনিতেই দুর্বল, গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে শৌচাগারহীন তাঁদের কলোনিটি
45. লাইগেশন করাতে গোপলি একাই হাঁটা দিলেন
সুরাটের মতো শহরগুলিতে কাজে গিয়েছেন স্বামীরা, তাই উদয়পুর জেলার গামেতি সমাজের ‘পড়ে-থাকা’ মহিলারা নিজেরাই গর্ভনিরোধক পন্থা এবং অন্যান্য চিকিৎসা বিষয়ক সিদ্ধান্তগুলি নিচ্ছেন
44. ‘আমি চাইনি আরও একটা বাচ্চা হোক’
আর যাতে বাচ্চাকাচ্চা না হয়, তার জন্য সহজ ও সুরক্ষিত গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন সুনীতা দেবী। কিন্তু শেষমেশ গর্ভপাত করাতে পিএইচসি থেকে বেসরকারি ডাক্তারখানা হয়ে দিল্লি ও বিহারের সরকারি হাসপাতালের দুয়ারে হত্যে দিতে হল তাঁকে
43. গোপন কিসসা কাহিনিতে ঠাসা ডিপো-দিদির ঝুলি
আমেঠি জেলার টিকারি গ্রামে মহিলাদের মাঝে নিছকই আড্ডার ছলে প্রজনন সংক্রান্ত অধিকারের কথা জিইয়ে রেখেছেন কলাবতী। ঝুলি ভরা গর্ভনিরোধক তথা বিবিধ দরকারি জিনিসের জোগান দিয়ে সমাজের অসংখ্য মানুষের কাছে তিনি আজ একজন ভরসাযোগ্য সহেলি হয়ে উঠেছেন
42. 'জরায়ুটা বাদ দেওয়ার পরই সব সমস্যার শুরু'
বীড জেলার আখ-কাটাইকারী মহিলা শ্রমিকদের মধ্যে একটা বড়ো অংশ হিস্টেরেক্টমির শিকার। অপারেশানের পর থেকেই তাঁরা দুশ্চিন্তা, অবসাদ, শারীরিক জ্বালাযন্ত্রণা ও বৈবাহিক সম্পর্কের জটিলতা নীরবে সহ্য করে চলেছেন
41. 'গর্ভপাতের কথাটা পাঁচ-কান করতে চাইনি আমি'
নুনে পোড়া নদীর জল, দাবদাহে অস্থির গ্রীষ্ম, স্বপ্ন হয়ে থাকা সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা - সব মিলিয়ে আজব এক গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে আছেন সুন্দরবনের মহিলারা
40. ‘ওষুধ দেওয়ার ছুতোয় ওরা আমার গায়ে হাত দেয়’
যৌনকর্মীরা সমাজের চেপে বসা তকমার দৌলতে হাসপাতাল কর্মীদের হাতে হেনস্থা, অপমানের শিকার হন। নিজেদের পরিচয়ের গোপনীয়তা লঙ্ঘনেও তাঁরা জেরবার। এমনকি, দেশের রাজধানী শহরেও স্বাস্থ্যপরিষেবা তাঁদের অধরা। আর এখন অতিমারির জেরে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠেছে
39. বিশ্বাসে মিলায় বস্তু: গ্রামীণ ঝাড়খণ্ডের হাতুড়ে-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো
পশ্চিম সিংভূম জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে, নড়বড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং দুর্বল পরিকাঠামোর কারণে গ্রামীণ হাতুড়ে ডাক্তাররাই হয়ে ওঠেন অপরিহার্য, ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা এখানে নেহাতই বিশ্বাস নির্ভর
38. মেলঘাটের প্রসব-সহায়িকা ধাত্রীদের অন্তিম প্রজন্ম
মহারাষ্ট্রের মেলঘাট ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কেন্দ্রের কাছাকাছি আদিবাসী জনপদে রোপি ও চকরুর মতো চিরাচরিত ধাত্রী প্রসব-সহায়িকারা দশকের পর দশক বাড়িতে সন্তান প্রসব করানোর কাজে সাহায্য করে চলেছেন। দুই দাইমা এখন বয়সের ভারে ন্যুব্জ এবং তাঁদের কাজের ঐতিহ্য বহন করার মতো আর কেউ নেই
37. ইউপি: ‘নাসবন্দি করানোর ঝক্কি বা ঝুঁকি কোনোটাই পুরুষেরা নিতে চায় না’
নাগালের বাইরে থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং আবহমানকাল থেকে চলে আসা সামাজিক বৈষম্যের কারণে উত্তরোত্তর বাড়তে থাকা বঞ্চনাই উত্তরপ্রদেশের বারাণসী জেলার নিরুপায় মুসহর মহিলাদের প্রাপ্তি
36. মধুবনীতে মেয়েদের জন্ম নথিভুক্তিকরণ: ফেলো কড়ি মাখো তেল
বিহারের মধুবনী জেলায় গরিব ঘরের মেয়েদের চিকিৎসা সংক্রান্ত পরিষেবা পেতে স্বাভাবিক সময়েও বাধার পাহাড় ডিঙোতে হয়। যেটুকু ছিঁটেফোঁটা মেলে তা নিয়েও যদি কারচুপি চলে তাহলে অসহায় মানুষগুলো কোথায় যাবেন?
35. উত্তরপ্রদেশ: ‘মান্ধাতার যুগেই পড়ে আছে আমাদের গ্রাম’
গ্রামীণ প্রয়াগরাজের দলিত জনপদে বসবাসকারী সোনু ও মীনার মতো আরও অসংখ্য কিশোরীর কাহিনি এটি – সেইসব মেয়েদের কাহিনি যাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হতে না হতেই
34. তিন-তিনটে মেয়ে! অন্তত খানদুই ছেলে না হলে তো চলবে না!
দারিদ্র, নাগালের বাইরে চলে যাওয়া শিক্ষা ব্যবস্থা, নিজেদের জীবনের উপর কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকা – শ্রেণি নির্বিশেষে বিহারের গয়া জেলার অধিকাংশ মহিলার ক্ষেত্রেই এগুলি খাটে। সুস্থ্ স্বাভাবিক জীবন তাই স্বপ্ন হয়েই থেকে যায়
33. কপার-টির গেরোয় যন্ত্রণার বারোমাস্যা
সন্তান প্রসবের পর দীপা দিল্লির এক হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁর শরীরে একটি কপার-টি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই বছর পর শুরু হয় অসহ্য যন্ত্রণা এবং রক্তপাত। একাধিক ডাক্তার মিলে হাজার চেষ্টা করা সত্ত্বেও ঠাহর করতে পারেননি যন্ত্রটা শরীরের ঠিক কোনখানে রয়েছে
32. 'সারাক্ষণই মনে হয় ছেলেরা বুঝি উঁকি মারছে'
তালামারা সাধারণ শৌচাগার, ছেঁড়া ন্যাকড়ায় ঢাকা বাথরুম, বেআব্রু অবস্থায় স্নান কিংবা জনসমক্ষে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলতে যাওয়া, শেষে মাঝরাত্রে রেললাইনের স্মরণাপন্ন হওয়া – প্রতিদিনই এ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পাটনার বস্তিতে থাকা অভিবাসী পরিবারের মেয়েরা
31. ‘আগেই যদি জানতাম যে এই জলেই ক্যান্সার লুকিয়ে আছে...’
বিহারের গ্রামে গ্রামে ভূগর্ভস্থ জলে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিকের উপস্থিতির ফলে প্রায় প্রতিটা বাড়িতেই নারী পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ মারা যাচ্ছে ক্যান্সারে, ঠিক যেমনটা হয়েছে প্রীতির পরিবারেও। আজ তাঁর স্তনেও গজিয়ে উঠেছে একটি মাংসপিণ্ড। আর চিকিৎসার জন্য হন্যে হয়ে ঘুরতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন মহিলারাই
30. বিহার: মৌলিক স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বহুদূরে মুসহর জনজাতির মহিলারা
শিওহর জেলার মুসহর জনপদে, শান্তি মাঞ্ঝি নিজের সাত-সাতটি বাচ্চার জন্ম দিয়েছেন বাড়িতেই। স্বাস্থ্য পরিষেবা এখানে অপ্রতুল এবং বেশিরভাগ মানুষ জানেনই না যে সন্তান প্রসবে সহায়তা করার মতো আদৌ কোনও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এলাকায় আছে কিনা
29. 'আমার মেয়েদের যেন আমার মতো দুর্দশা না হয়'
ছেলে না হওয়া পর্যন্ত বারবার গর্ভধারণ করতে বাধ্য হন বিহারের পাটনা জেলার বালিকা এবং কিশোরী বধূরা। সমাজের সংকীর্ণ নিয়ম এবং কুসংস্কারের সামনে হার স্বীকার করতে বাধ্য হয় এ দেশের আইন
28. মাসিক কারাবাসে কাডুগোল্লা সম্প্রদায়ের মহিলারা
আইন, আন্দোলন, প্রচার অভিযান, ব্যক্তিবিশেষের প্রতিরোধ – সবকিছু উপেক্ষা করে কর্ণাটকের কাডুগোল্লা জনজাতির রজঃস্বলা এবং সদ্য মা হওয়া মহিলারা গাছের তলায় কিংবা পৃথক ঝুপড়িতে নির্বাসিত হয়ে দিনযাপন করেন। এর পিছনে রয়েছে দৈব অভিশাপ এবং সামাজিক কলঙ্কের ভীতি
27. 'আমার মতো মেয়েকে কে বিয়ে করবে?'
বিহারের মুজফফরপুর জেলার চতুর্ভূজ স্থান নামের যৌনপল্লীর যৌনকর্মীরা তাঁদের 'বাঁধা বাবুদের' মন রাখতে অল্প বয়েসেই গর্ভবতী হয়ে পড়েন। কোভিড-১৯ এবং দুর্বিষহ লকডাউনের আবহে নাভিশ্বাস উঠেছে তাঁদের
26. ওড়িশার মালকানগিরিতে মৃত্যুঞ্জয়ের জন্ম বৃত্তান্ত
জলাধার সংলগ্ন, ওড়িশার মালকানগিরির আদিবাসী জনপদে ঘন জঙ্গল, উঁচু পাহাড়, রাষ্ট্র বনাম জঙ্গি বাহিনীর দ্বন্দ্বের মাঝে, বিক্ষিপ্ত নৌকা পরিষেবা আর ভাঙাচোরা রাস্তাই বিরল স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার দ্বারস্থ হওয়ার একমাত্র উপায়
25. বিহার: অতিমারির জেরে হুহু করে বাড়ছে বাল্যবিবাহ
গতবছর বিহারে লকডাউনের সময়ে ঘরে ফেরা পরিযায়ী শ্রমিক যুবকদের সঙ্গে বহু কিশোরীর বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। তাদের অনেকেই এখন সন্তানসম্ভবা হয়ে চেয়ে আছে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে
24. চুপিসারে পরিবর্তন চাইছে মধুবনী
একদশক আগেও বিহারের হাসানপুর গ্রাম জন্ম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি বেশিরভাগ সময়েই এড়িয়ে যেত। বর্তমান ছবিটা কিন্তু অন্যরকম। এখন এখানকার মহিলারা সলাহ ও শমার মতো স্বেচ্ছাসেবী স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে নেওয়া যায় এমন জন্মনিরোধক সম্বন্ধে পরামর্শ চান। এই পরিবর্তন সম্ভব হল কেমন করে?
23. বিহারের ‘লেডি’ ডাক্তারদের প্রাপ্তি বলতে কাজের চাপ আর গঞ্জনা
কাজের বিষম চাপ, ওষুধ-পথ্যের অভাব, মহিলাদের একাধিকবার গর্ভধারণ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণে অনীহা বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলায় কতিপয় কর্মরত মহিলা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের কাজকে দুরূহ করে তুলেছে
22. ‘নয় মেয়ে আমার, আর এই দশ নম্বরটি - ছেলে’
গুজারাতের ঢোলকা তালুকের ভারওয়াড় রাখালিয়া যাযাবর জনগোষ্ঠীর মহিলাদের ওপর পুত্র সন্তান জন্ম দেওয়ার চাপ এবং পরিবার পরিকল্পনা সংক্রান্ত ব্যবস্থা মোটের উপর তাঁদের নাগালের বাইরেই থেকে যাওয়ায় গর্ভনিরোধক নির্বাচন করার ক্ষমতা তথা প্রজনন অধিকারের মতো কথাগুলি ফাঁকাবুলি হয়েই থেকে যায়
21. 'বাবা বলেন, বেশি লেখাপড়া করলে আমার বর জুটবে না!'
বিহারের সমস্তিপুর জেলার মহাদলিত সম্প্রদায়ের অল্পবয়সী মেয়েরা লেখাপড়া করলে সমাজের চক্ষুশূল হয়ে ওঠে, অনেক সময় জোর করে তাদের লেখাপড়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, সাধ আহ্লাদ স্বপ্ন শিকেয় তুলে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। মেয়েদের কেউ কেউ তা ঠেকানোর মরিয়া চেষ্টা করে, অনেকেই আবার মেনে নিতে বাধ্য হয়
20. ‘আমাদের যা অফিস তা-ই শোয়ার জায়গা!
স্থানাভাব ও আর পাঁচটা সুবিধার অভাবে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীরা নিজেদের কর্মস্থলে, ওয়ার্ডের শয্যায় বা এমনকি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেঝেতেও শুতে বাধ্য হন
19. গর্ভে মৃত শিশুর জন্ম-সার্টিফিকেট মিলল পরদিন!
বিহারের বৈশালী জেলার একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, যেখানে আলট্রাসাউন্ড মেশিনে বাসা বেঁধেছে মাকড়শা, সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী ইউএসজি করার জন্য আলাদা করে টাকা দাবি করেন আর সেই সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুকে মৃত ঘোষণা করে দেন যাতে পরিবারটি অনেক টাকা ব্যয় করে বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে ছুটতে বাধ্য হয়
18. লড়ঝড়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্র আর বিনা-ডিগ্রির ডাক্তার
অপ্রতুল কর্মী, বন্যপশুর অবাধ বিচরণ, হাসপাতাল-ভীতি, দুর্বল ফোন সংযোগ ব্যবস্থা – এইসব নিয়ে জেরবার বিহারের বারাগাঁও খুর্দ গ্রামের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, অগত্যা গ্রামের প্রসূতিদের বাড়িতে প্রসব করা ছাড়া গতি নেই
17. আলমোড়ায় সন্তান প্রসব মানে পাহাড় ডিঙোনো
গতবছর উত্তরাখণ্ডের আলমোড়া জেলার রানো সিং পাহাড় ডিঙিয়ে হাসপাতাল যাওয়ার পথে রাস্তাতেই সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হয়েছিলেন — এ এমন এক জায়গা যেখানে ভূপ্রকৃতি এবং খরচের ভয়ে অনেকেই বাড়িতে সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন
16. বলপূর্বক নির্বীজকরণ: অকারণে খোয়া গেল অমূল্য একটি প্রাণ
কোনওরকম নিয়মের তোয়াক্কা না করে একটি ‘ক্যাম্প’-এ, রাজস্থানের বনসী গ্রামের ভাবনা সুথারের নির্বীজকরণ হয়। এই শিবিরে তাঁকে জন্মনিয়ন্ত্রণের বিকল্প কোনও উপায় ভেবে দেখার সময়টুকুও দেওয়া হয়নি। এই ক্যাম্পেই তিনি মারা যান। তাঁর স্বামী আজও ন্যায় বিচারের আশায় হত্যে দিয়ে আছেন
15. ‘নয়মাসের পোয়াতি, সে অবস্থাতেও খদ্দের’
চারবার গর্ভপাত, মদে আসক্ত স্বামী এবং কারখানার চাকরি হারানোর পরে, দিল্লির বাসিন্দা হানি যৌনকর্মে বাধ্য হলেন, সেসময় তিনি পঞ্চমবারের জন্য গর্ভবতী। সেই থেকেই যৌনরোগ নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এখন লকডাউনে, উপার্জন করাটাই রীতিমতো একটা সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে
14. ‘আমার স্ত্রীর এই সংক্রমণ হল কী করে?’
নাসবন্দির পর থেকেই শুরু হল সংক্রমণজনিত যন্ত্রণা, হতবুদ্ধির মতো হাসপাতালে দৌড়ঝাঁপ, বাড়তে থাকল ঋণের বোঝা — এই অবস্থা চলল তিনবছর ধরে; অবশেষে ২৭ বছর বয়সী সুশীলা দেবী হিস্টেরেকটমি করিয়ে তবে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেলেন — অকুস্থল রাজস্থানের দৌসা জেলা
13. ‘ডাক্তার বলছে আমার হাড় ফাঁপা হয়ে গেছে’
সারাজীবন রোগভোগ আর জরায়ু বাদ দেওয়া সহ আরও বিভিন্ন অস্ত্রোপচারের পর পুণে জেলার হাডশি গ্রামের বিবাবাঈ লোয়ারের শরীর বেঁকে ছোট হয়ে গেছে। এসবের পরেও তিনি যেমন চাষের কাজ করে চলেছেন তেমনই দেখাশুনা করে যাচ্ছেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্বামীর
12. ‘আমার জরায়ু কেবলই বেরিয়ে আসে’
মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার মহিলারা তাঁদের নেমে আসা বা ঝুলে যাওয়া জরায়ুর রোগে চিকিৎসা পান না। সড়ক সংযোগ বা মোবাইল পরিষেবার অভাব, হাড়ভাঙা পরিশ্রম আর নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে তাঁরা জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন
11. ‘ডাক্তাররা জরায়ু বাদ দেওয়ার অপারেশন করাতে বলেছিলেন’
বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধকতাসম্পন্ন মহিলাদের যৌনতা ও প্রজনন কেন্দ্রিক স্বাস্থ্য-অধিকার থেকে প্রায়ই বঞ্চিত করা হয় হিস্টেরকটমির মাধ্যমে। কিন্তু মহারাষ্ট্রের ওয়াদি গ্রামের মলন মোরের বরাত ভালো যে তিনি তাঁর মাকে পাশে পেয়েছিলেন
10. ‘গোটা বারো বাচ্চার পর নিজেই থেমে যায়’
সাংস্কৃতিক কারণ, নাগালের বাইরে থাকা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং পরিষেবা প্রদানকারীদের ঔদাসীন্যের কারণে হরিয়ানার বিওয়ান গ্রামের মেও মুসলমান মহিলাদের পক্ষে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি অবলম্বন করা রীতিমতো পাহাড় ডিঙনোর মতো কঠিন কাজ — ফলে মহিলারা একের পর এক সন্তানের জন্ম দেওয়ার চক্রে আটকা পড়ে যান
9. লকডাউনে ঘরবন্দি ছাত্রীদের পিরিয়ড-সংক্রান্ত মৌলিক প্রয়োজনটুকুও অমিল
লকডাউনে স্কুল বন্ধ হওয়ার ফলে উত্তরপ্রদেশের চিত্রকূট জেলার দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন পাওয়ার আর কোনও উপায় নেই, বিকল্প হিসেবে যা আছে সবগুলিই স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। শুধু উত্তরপ্রদেশেই এমন মেয়েদের সংখ্যা কয়েক লক্ষ
8. গ্রামীণ স্বাস্থ্য-সূচক চুলোয় যাক, চলুক গরু গণনা
হরিয়ানার সোনিপত জেলায়, সুনীতা রানী ও অন্যান্য আশাকর্মীরা নামমাত্র মাইনেতে গাদা গাদা সমীক্ষার কাজ, রিপোর্ট তৈরি করা ও আরও বিভিন্ন দায়িত্বের চাপে গ্রামীণ পরিবারগুলির প্রজনন-স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখতে গিয়ে হিমসিম খাচ্ছেন
7. নীলগিরিতে চলছে অপুষ্টির পরম্পরা
প্রায় রক্তশূন্য মা, ৭ কিলো ওজনের দুবছরের শিশু, মদ্যাসক্তি, স্বল্প আয় এবং বনজ সম্পদের উপর কমতে থাকে অধিকার তামিলনাডুর গুডালুরের আদিবাসী মহিলাদের মধ্যে নিদারুণ অপুষ্টি আরও বাড়িয়ে তুলছে
6. ‘ওই নাতির চক্করে আমাদের চার-চারটি বাচ্চা হল’
দিল্লি থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে, হরিয়ানার হরসানা কলান গ্রামের মহিলারা শোনালেন কেমন করে পুরুষের হিংস্র বিরোধিতার মুখে দাঁড়িয়ে তাঁরা নিজেদের জীবন ও প্রজনন সাস্থ্য সংক্রান্ত অধিকারকে খানিক আপন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য লড়াই করছেন
5. ‘ছাগলগুলোই এখন আমার সন্তানের মতো’
মহারাষ্ট্রের নন্দুরবার জেলার ধাড়গাঁও অঞ্চলের মহিলারা এমন এক গ্রামীণ স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে আছেন যেখানে বন্ধ্যাত্বের জন্য কোনও ফলপ্রসূ চিকিৎসা নেই ফলে সন্তানহীনরা সমাজে কোনঠাসা হয়ে সামাজিক কলঙ্কের ভার বহন করে বেঁচে থাকতে বাধ্য হন
4. ‘গতবছর, মাত্র একজন পুরুষ-ই নাসবন্দি করাতে রাজি হয়েছিল’
পরিবার পরিকল্পনায় পুরুষের অংশগ্রহণ নিয়ে কথা অনেক হয় কিন্তু বিহারের বিকাশ মিত্র ও আশা কর্মীরা পুরুষদের নির্বীজকরণে রাজি করাতে খুব একটা সফল হচ্ছেন না, ফলে জন্মনিয়ন্ত্রণের সব দায় গিয়ে এখনও পড়ছে সেই মহিলাদের উপরেই
3. ‘একটা করে ওষুধ দিয়ে তাঁদের পত্রপাঠ বিদায় করা হয়’
ছত্তিশগড়ের সুবন্দোবস্ত যুক্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আদিবাসী মহিলাদের নাগালের বাইরেই রয়ে যায় — সন্তান প্রসব করতে বা গর্ভপাত করাতে প্রাণের ঝুঁকি নিয়েই তাঁরা যান অপেশাদার হাতুড়ে চিকিৎসকদের কাছে
2. ‘ঝামেলা চুকল’ — নাসবন্দি করালেন নেহা
২০১৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে বন্ধ্যাকরণ ক্যাম্পের বদলে এখন ‘নাসবন্দি দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়, তবে মূলত মহিলারাই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করেন — এবং উত্তরপ্রদেশের বেশিরভাগ মহিলা জন্ম নিয়ন্ত্রণের আধুনিকতর ব্যবস্থার অভাবে এই পদ্ধতি মেনে নিতে বাধ্য হন
1. কুভালাপুরমের আজব গেস্টহাউস
মাদুরাই জেলার কুভালাপুরম সহ আরও চারটি গ্রামে এখনও ঋতুমতি মেয়েদের আলাদা করে রাখা হয় একটি ‘গেস্টহাউসে’। দেবতা ও মানুষের কোপে পড়ার ভয়ে কেউই এতে আপত্তি করে না
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
Donate to PARI
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/নারী-স্বাস্থ্য-বিষয়ক-পারির-কাহিনি-সংকলন



















































