এখানকার ধাত্রীরা সন্তান ধারণ করতে না পারলে মহিলাদের স্থানীয় গাছ-গাছড়া থেকে তৈরি ওষুধও দেন, এগুলিতে যদি কাজ না হয় তাহলে তাঁদের স্বামীরা কখনো কখনো পুনরায় বিয়ে করেন।
কুসুমা নারিয়ার বিয়ে হয় ১৩ বছর বয়সে। ২০ বছর বয়সের মধ্যেই তাঁর তিনটি সন্তানও হয়ে যায়। কুসুমা আমাকে জানান যে জন্মনিয়ন্ত্রণ দূরে থাক, তিনি মাসিক ঋতুস্রাবের কথাও পর্যন্ত জানতেন না। কুসুমের কথায়, “আমি তো খুব ছোট ছিলাম, কিচ্ছু জানতাম না, কিন্তু যখন ওটা (ঋতুস্রাব) হল, মা আমাকে কাপড় ব্যবহার করতে বলল আর বলল যে আমি বড়ো হয়ে গেছি — তারপর তাড়াতাড়ি আমার বিয়ের ব্যবস্থা করে ফেলল। আমি শারীরিক সম্পর্কের কথাও কিছু জানতাম না। প্রথম বাচ্চা হওয়ার সময়ে আমার বর আমাকে একা হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে আসে, বাচ্চাটা বাঁচলো কিনা তাও দেখেনি - কেননা বাচ্চাটা মেয়ে ছিল। কিন্তু আমার মেয়ে বেঁচে যায়।”
কুসুমার অন্য দুটি সন্তান ছেলে। “আমি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আবার দ্বিতীয় বাচ্চা হোক এটা না চাওয়ায় আমাকে মারধোর করা হয়েছিল কারণ সবাই তখন ছেলের আশায় ছিল। আমি বা আমার স্বামী কেউই ওষুধের (জন্মনিরোধক) কথা জানতাম না। জানলে আমি এত কষ্ট পেতাম না। কিন্তু বাচ্চা হতে বাধা দিলে আমাকে বাড়ি থেকেই তাড়িয়ে দিত।”
কোটাগুড়ায় কুসুমার বাড়ির কাছেই থাকেন পর্বা। সেদিন ও আমাকে বলছিল, “আমি যে বেঁচে আছি তা-ই আমার বিশ্বাস হয় না। যা কিছু তখন হয়েছিল, সেসব যে আমি সহ্য করলাম কেমন করে তা আমি নিজেই জানি না। আমার খুব যন্ত্রণা হচ্ছিল, আমার অত কষ্ট দেখে আমার ভাইটাও কেঁদে ফেলেছিল। তারপর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতাল যাওয়া আর তারপরেও এই বাচ্চা এলো, ওকে তো আমি কিছুদিন অবধি দেখতেও পাইনি। কী করে এতসব পার করলাম জানি না। আমি প্রার্থনা করি যেন এমন অবস্থা কারও না হয়। কিন্তু আমাদের মতো পাহাড়ি এলাকার মেয়েদের সবারই এই এক অবস্থা।”
পর্বা যেভাবে মৃত্যুঞ্জয়ের জন্ম দিলেন — এবং ভারতবর্ষের এইসব আদিবাসী অঞ্চলে গ্রামের মেয়েদের জীবনকাহিনি আর যে পরিস্থিতিতে তাঁরা প্রসব করেন, তার সবটাই অবিশ্বাস্য। অবশ্য, আমাদের মালকানগিরিতে কী হয় তা নিয়ে কে-ই বা আর মাথা ঘামায়!
পারি এবং কাউন্টার মিডিয়া ট্রাস্টের গ্রামীণ ভারতের কিশোরী এবং তরুণীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত দেশব্যাপী রিপোর্টিং প্রকল্পটি পপুলেশন ফাউন্ডেশন সমর্থিত একটি যৌথ উদ্যোগের অংশ যার লক্ষ্য প্রান্তবাসী এই মেয়েদের এবং সাধারণ মানুষের স্বর এবং যাপিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই অত্যন্ত জরুরি বিষয়টিকে ঘিরে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা।
নিবন্ধটি পুনঃপ্রকাশ করতে চাইলে [email protected] – এই ইমেল আইডিতে লিখুন এবং সঙ্গে সিসি করুন [email protected] – এই আইডিতে।
বাংলা অনুবাদ: চিলকা