হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার সময় দীপা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাঁর শরীরে একটি কপার-টি (এক প্রকার গর্ভনিরোধক যন্ত্র) ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবে দ্বিতীয় সন্তান প্রসব করেছিলেন তিনি, এবারও ছেলে হয়েছে। তাঁর ইচ্ছে ছিল বন্ধ্যাত্বকরণ করিয়ে নেওয়ার, কিন্তু যেহেতু তাঁর সি-সেকশন করতে হয়েছিল, তাই "ডাক্তারবাবু বললেন যে দু-দুটো অপারেশন একসঙ্গে করা যাবে না," জানালেন দীপা।
তার বদলে ডাক্তার কপার-টিয়ের কথাটা পাড়েন, কিন্তু দীপা এবং তাঁর স্বামী নবীন (পরিচয় গোপন রাখতে দুজনেরই নাম পাল্টে দেওয়া হয়েছে) ভেবেছিলেন যে এটা নিছকই একটা পরামর্শ কেবল।
২০১৮ সালের মে মাসে তাঁর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার দিন চারেক পর দিল্লির দীন দয়াল উপাধ্যায় (সরকারি) হাসপাতাল থেকে ছুটি পান দীপা। "ডাক্তারবাবু যে ইতিমধ্যেই ওর পেটের মধ্যে একটা কপার-টি গুঁজে দিয়েছে সেটা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি," বলছিলেন নবীন।
দীপা কিংবা নবীন কেউই হাসপাতালের ডিসচার্জ রিপোর্ট পড়ে দেখেননি প্রথমটায়। হপ্তাখানেক পরে, ওঁদের মহল্লায় কর্মরত একজন আশাকর্মী সেসব কাগজপত্র খুঁটিয়ে না দেখলে কেউ জানতেও পারত না যে কী হয়েছে।
এই কপার-টি আসলে এক ধরনের গর্ভনিরোধক যন্ত্র (ইন্ট্রাইউটেরাইন কন্ট্রাসেপটিভ ডিভাইস – IUD) যেটিকে জরায়ুর মধ্যে স্থাপন করা হয়। "শরীরে এটা সড়গড় হতে হতে মাসের পর মাস কেটে যায়, অনেকেরই কষ্ট হয় খুব। তাই আমরা মহিলাদের বলে দিই যাতে তাঁরা নিয়মিত [টানা ছয়মাস] ডাক্তারখানায় এসে দেখিয়ে যান," জানালেন ৩৬ বছর বয়সী আশাকর্মী (অ্যাক্রেডিটেড সোশ্যাল হেল্থ অ্যাক্টিভিস্ট, স্বীকৃত সামাজিক স্বাস্থ্যকর্মী) সুশীলা দেবী। তিনি দীপাদের মহল্লায় ২০১৩ সাল থেকে কাজ করছেন।
তবে প্রথম তিনমাস শরীরে কোনও রকমের ব্যথা-বেদনা অনুভব করেননি দীপা। ওদিকে তাঁর বড়ো ছেলেও অসুস্থ ছিল, তাই সব মিলিয়ে ডাক্তারখানায় যাওয়া আর হয়ে ওঠেনি তাঁর। বলতে গেলে একরকম মনস্থির করেই ফেলেছিলেন যে কপার-টি তিনি ব্যবহার করবেন।










