একদিন বিকেলবেলা অশোক তাঙ্গড়ে তাঁর ফোন ঘাঁটছিলেন, হঠাৎই হোয়াটসঅ্যাপের একটা নোটিফিকেশন চোখে পড়ল। একখান ডিজিটাল বিয়ের কার্ড, অল্পবয়সি বরকনে একে অপরের দিকে সলজ্জ চোখে চেয়ে আছে। নিমন্ত্রণপত্রে বিয়ের স্থানকাল লেখা ছিল।
তাঙ্গড়ে সাহেবকে আদৌ বিয়েতে ডাকার জন্য এই কার্ডটা পাঠানো হয়নি।
বরং পশ্চিম ভারতের এক জেলা থেকে তাঁর এক ইনফরম্যান্ট (খবরি বা গোপন তথ্যদাতা) এটা পাঠিয়েছেন। নিমন্ত্রণপত্রের সঙ্গে কনের জন্ম-শংসাপত্রও রয়েছে, যেটা মোতাবেক মেয়েটি মোটে ১৭ বছরের, অর্থাৎ আইনের চোখে নাবালিকা।
কার্ডের উপর চোখ বোলাতেই তাঙ্গড়ে সাহেব (৫৪) টের পেলেন, আর মোটে এক ঘণ্টা পরেই বিয়ে। তড়িঘড়ি তাঁর সহকর্মী তথা বন্ধু তত্ত্বশীল কাম্বলেকে ডেকে নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লেন।
জুন ২০২৩-এর সেই ঘটনাটির বিবরণ দিতে গিয়ে অশোক তাঙ্গড়ে জানালেন, “বীড শহরের যেখানে আমরা থাকি, সেখান থেকে ওই জায়গাটা মোটে আধঘণ্টা দূরে। যাওয়ার পথেই স্থানীয় পুলিশ আর গ্রামসেবককে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত ছবিগুলো পাঠিয়ে দিলাম, যাতে আর এক মুহূর্তও সময় না নষ্ট হয়।”
তাঙ্গড়ে ও কাম্বলে দুজনেই শিশু-অধিকারকর্মী, মহারাষ্ট্রের বীড জেলায় তাঁরা হুইসেলব্লোয়ারের (খবর ফাঁস করেন যাঁরা) ভূমিকা পালন করেন।
এই কাজে তাঁদের হয়ে হরেক কিসিমের মানুষকেই তথ্যদাতা বা খবরির ভূমিকায় দেখা যায়: জনৈক স্কুল মাস্টারের নববধূর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া এক গাঁয়ের ছোকরা কিংবা সমাজকর্মী — মোট কথা, বাল্যবিবাহ আদতে অপরাধ এই বোধটা যাঁদের আছে, তাঁরাই গোপন তথ্য এনে দেন। বহু বছর ধরে সমগ্র জেলা জুড়ে তিলে তিলে দু’হাজারেরও অধিক খবরির রীতিমতো একটা তন্ত্র ফেঁদেছেন এই দুই শিশু-অধিকারকর্মী, ইনফর্মাররা আছেন বলেই বাল্যবিবাহের উপর নজরদারি চালাতে সক্ষম হচ্ছেন তাঙ্গড়ে ও কাম্বলে সাহেব।












