তিনি হাজির হলেন যেভাবে, আজ অবধি কোনও সিনেমার দৃশ্যে হিরোর আবির্ভাবও ওভাবে হয়েছে বলে তো মনে হয় না। এই তো, পাঁচ মিনিট আগেই জনা ছয় পুরুষ মিলে দিব্যি কেটে বলেছিল যে কাঁঠালের কারবারে মেয়েমানুষের কোনও জায়গা নেই — বওয়ানি, ভারি ওজন তোলাপাড়া, ঝুঁকি, এসবের জন্য আর কি। অথচ গায়ে হলুদ একখান শাড়ি, মাথায় ধূসর চুলের খোঁপা আর নাকে আর কানে সোনার গয়না পরে এ. লক্ষ্মী দোকানে পা রাখতেই সসম্ভ্রমে একজন চাষি বলে উঠলেন, “এ ব্যবসায় তাঁর মতো গণ্যমান্য আর কেউ নেই।”
“আমাদের ফসলের দরদাম সব উনিই ঠিক করেন।”
এ. লক্ষ্মী শুধুই যে পানরুটির সবেধন মহিলা কাঁঠালচাষি, তা নয়, কৃষিনির্ভর বাণিজ্যে তাঁর মতো প্রবীণ মহিলা ব্যাপারী খুব কমই আছেন।
তামিলনাড়ুর কুড্ডালোর জেলার পানরুটি শহরটা কাঁঠালের জন্যই বিখ্যাত। ফসলের মরসুমে শত শত টন কাঁঠাল কেনাবেচা হয় প্রতিদিন। যে ২২টি দোকান এ শহরের কাঁঠাল-মাণ্ডি হিসেবে কাজ করে, সেখানে ঠিক কত টাকায় হাজার হাজার ফল বিকবে, সেটা লক্ষ্মীই ঠিক করেন। ক্রেতাদের থেকে অল্প একটু কমিশন পান — প্রতি ১,০০০ কাঁঠালে ৫০ টাকা, চাইলে চাষিরাও আরও খানিকটা টাকা ধরে দেন তাঁর হাতে। লক্ষ্মীর আন্দাজ, কাঁঠালের মরসুমে রোজ ১,০০০-২,০০০ টাকা আয় তো হয়-ই।
তবে সেটার জন্য ১২ ঘণ্টা খাটতেও হয়, রাত ১টা বাজলেই দিন শুরু হয়ে যায় তাঁর। “সরাক্কুর [পণ্য] পরিমাণ খুব বেশি হলে তো ব্যবসায়ীরা তারও আগে বাড়ি থেকে আমায় ডেকে নিয়ে যায়,” বুঝিয়ে বললেন লক্ষ্মী। অটোয় চেপে মাণ্ডি পৌঁছতে ভোররাত ৩টে পেরিয়ে গেছে, এমনটা কক্ষনো হয়নি। লক্ষ্মীর ‘দিন’ শেষ হতে হতে দুপুর ১টা বেজে যায়, তারপর ঘরে ফিরে চাট্টি খেয়েদেয়ে ঘুমানোর পালা। দেখতে দেখতেই আবার বাজারে ছোটার সময় চলে আসে।
“কাঁঠালের চাষের ব্যাপার খুব একটা বেশি কিছু জানি না,” তিনি বললেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বকবক করে আর চিল্লিয়ে গলাখানা কেমন যেন ঘ্যাড়ঘ্যাড়ে হয়ে গেছে। “তবে বিক্রিবাটার ব্যপারে অল্প একটু জানি বৈকি।” বড্ড বিনয়ী তিনি। আরে বাবা, তিন দশক ব্যবসা করে পেট চালাচ্ছেন লক্ষ্মী। তবে তারও আগে, ২০ বছর ধরে চলন্ত রেলগাড়িতে কাঁঠাল বেচতেন লক্ষ্মী।















