এই বছর জুলাই মাসে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টির পরে ঘটা এই বন্যা নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলায় দাবি করা হয়েছে এই বন্যার ফলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ। যমুনা রিভার প্রজেক্ট: নিউদিল্লি আর্বান ইকোলজি জানাচ্ছে: নদী অববাহিকার উপর ক্রমাগত জবরদখলের ফলাফল ভয়ঙ্কর দিকে যেতে পারে, “... অববাহিকার নিচু অঞ্চলগুলিতে বানানো বাড়িঘর ধ্বংস এবং পূর্ব দিল্লি জলের তলায় চলে যাওয়ার” আশঙ্কা রয়েছে।
যমুনার তীরে প্রায় ২৪,০০০ একর জমিতে চাষবাস হয়, একশো বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে চাষ করছেন চাষিরা। কিন্তু নদী অববাহিকায় কংক্রিটের বাড়বাড়ন্ত শুরু হওয়ার পর - একাধিক মন্দির, মেট্রো স্টেশন, সাম্প্রতিক অতীতে কমনওয়েল্থ গেমস ভিলেজ ইত্যাদির নির্মাণ বন্যার জল থিতু হওয়ার জন্য জায়গা ক্রমশ কমিয়ে এনেছে। পড়ুন: মহানগর, ক্ষুদ্র কৃষক ও এক মুমূর্ষু নদী
“আমরা যত যাই করি, প্রকৃতি তো নিজের পথেই চলবে। আগে বৃষ্টি পড়লে, বন্যা হলে জল অনেকটা জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে যেতে পারত, কিন্তু এখন [অববাহিকায়] জায়গা কমে গেছে, তাই নদী ফুলে উঠছে, আর আমাদের বরবাদ করে দিচ্ছে,” বলছেন কমল, ২০২৩ বন্যার ভুক্তভোগী বেলা এস্টেটের বাসিন্দা। “সাফ করনি থি যমুনা, লেকিন হামে হি সাফ কর দিয়া [যমুনা সাফ করার কথা ছিল, আমাদেরই সাফ করে দিল]!”
“যমুনা কে কিনারে বিকাশ নেহি করনা চাহিয়ে। ইয়ে ডুব ক্ষেত্র ঘোষিত হ্যায়। কমনওয়েল্থ ভিলেজ, অক্ষরধাম, মেট্রো ইয়ে সব প্রকৃতি কে সাথ খিলওয়াড় হ্যায়। প্রকৃতি কো যিতনি জাগাহ্ চাহিয়ে, উয়ো তো লেগি। পেহলে পানি ফ্যায়লকে যাতা থা, অউর অব কিঁউকি জাগাহ্ কম হ্যায়, তো উঠ কে যা রহা হ্যায়, জিসকি ওয়াজে সে নুকসান হামে হুয়া হ্যায় [যমুনার তীরে উন্নয়ন করাই উচিত না। এটা ঘোষিত বন্যাপ্রবণ অঞ্চল। কমনওয়েল্থ ভিলেজ, অক্ষরধাম মন্দির, মেট্রো স্টেশন এইসবই প্রকৃতির সঙ্গে খেলা করার সামিল। প্রকৃতির যত জায়গা লাগবে নেবে],” যোগ করলেন কমল।
“দিল্লি কো কিসনে ডুবায়া [দিল্লি ডোবালো কে]? দিল্লি সরকারের সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের কাজই হল প্রতিবছর ১৫-২৫ জুনের মধ্যে বন্যার প্রস্তুতি নিয়ে রাখা। ওরা যদি [ঠিক সময়ে] বাঁধের গেটগুলো খুলে দিত, জল এভাবে বেড়ে যেত না। পানি ন্যায় মাংনে সুপ্রিম কোর্ট গয়া [বিচার চাইতে জল সুপ্রিম কোর্টের দোরগোড়াতেই পৌঁছে গেছে],” রাজেন্দ্র সিং-এর ঠাট্টা-টা আর ঠাট্টার মতো শোনায় না।