হরিয়ানা-পঞ্জাবের মাঝে শম্ভু ও খানৌরি সীমান্তে সংগ্রামরত কৃষকদের দমন করতে সরকার যেভাবে উপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের গোলা ছুঁড়েছিল, সেসব নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন চাষিরা। পড়ুন: 'শম্ভু সীমান্তে যেন আটকা পড়ে আছি'
রাজধানীতে ঢোকার মুখে চাষিদের আটকাতে সারি সারি বাধা-বিপত্তি খাড়া করেছে সরকার, এইটা দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন এক কৃষক নেতা। ডাক দিলেন: “দিল্লি হামারি হ্যায়! দেশ পর ওহি রাজ করেগা, জো কিষাণ মজদুর কি বাত করেগা! [এ দিল্লি আমাদের! যে কৃষক মজুরের কথা বলবে, এদেশে শুধু তাহারই রাজ চলবে!]”
‘কর্পোরেট, সাম্প্রদায়িক, স্বৈরতান্ত্রিক শাসন’-এর প্রতিবাদে বর্তমান সরকারকে শাস্তি দেওয়ার দাবি তুললেন পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের কৃষক তথা শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
“জানুয়ারি ২২, ২০২১-এর পর থেকে একটিবারের জন্যও চাষি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সরকার কথা বলেনি। তা আলোচনা যদি না-ই হয়, সমস্যার সমাধান হবেটা কেমন করে?” বলেছিলেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) জাতীয় মুখপাত্র তথা এসকেএমের নেতা রাকেশ টিকাইত।
সারা ভারত কৃষক সভার সাধারণ সম্পাদক ড. বিজু কৃষ্ণন জানালেন, “২০২০-২১ সালের কৃষক আন্দোলনের শেষে, নরেন্দ্র মোদীর সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় যে সি২+৫০ শতাংশ হারে এমএসপি [ন্যূনতম সহায়ক মূল্য] বলবৎ করবে। বাস্তবে কিছুই হয়নি। উপরন্তু কর্জ মকুবেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, আজ পর্যন্ত সেটাও করেনি।” কৃষক আন্দোলন ঘিরে পারির প্রতিবেদন সংকলনটি পড়ুন।
মঞ্চ থেকে ড. কৃষ্ণন মনে করিয়ে দিলেন সেই ৭৩৬ জনেরও অধিক চাষির কথা, যাঁরা বছরভর আন্দোলন চলাকালীন শাহাদাত দেন। সরকার কথা দিয়েছিল যে তাঁদের পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণ দেবে, তাঁদের উপর থেকে সমস্ত মামলাও হটিয়ে নেবে, অথচ সে কথা আজও পূরণ হয়নি। মহাপঞ্চায়েতে তিনি পারি’কে বলেন, “বিদ্যুৎ আইনের সংশোধনগুলোও রদ করার কথা ছিল, এখনও পর্যন্ত সেটাও করেনি।”