পঞ্চম দোহায় গীতিকার জিজ্ঞেস করেন যে, “অছুৎ! অছুৎ কে গো ডাকে বেমালুম?” উনি আমাদের মনে করিয়ে দেন যে ভেদাভেদ মুছে ফেলতে ভীম সকল ব্রাহ্মণকে তাঁর কুটুম্ব বানিয়ে ফেলেছিলেন। (ডঃ আম্বেদকরের দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী সবিতা ছিলেন একজন ব্রাহ্মণ, এই অনুষঙ্গ সেদিকেই ইঙ্গিত করে)।
পারিজাত দিয়ে ভীমের পাগড়ি বেঁধে দিতে চান লীলাবাই, তাই ষষ্ঠ ওভিটিতে তিনি শুধান, “কী ফুল এনেছো ওগো মালিনী এবার?” এরপর সপ্তম দোহায় একটি দ্বৈত্বভাব ফুটে ওঠে। একাধারে বর্ণিত হয় তুরের ডালে (অড়হর ডাল, সম্মান ও সমৃদ্ধির প্রতীক, যার বদলে ছান্দিক ভাবানুবাদের নিরিখে এখানে “মুসুরের ডাল” ব্যবহৃত হয়েছে রূপক হিসেবে) আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছুটে আসা ট্রেন (অগ্রগতির চিহ্নবিশেষ), অন্যদিকে থাকে “লাশকাটি” মারাঠি মানুষ যারা জন্তুজানোয়ারের মৃতদেহ পরিষ্কার করে। উচ্চবর্ণের মানুষেরা দলিতদের বরাবর বাধ্য করে এসেছে পশুপ্রাণীর লাশ পরিষ্কার করতে - এই ভাবনাতীত অমানবিকতার জন্য তাদের প্রতি যুগ যুগ ধরে জমে উঠেছে দলিত সমাজের যে ক্ষোভ, সেটাই প্রকাশ পেয়েছে এই গানে। তাই ট্রেন ও তুরের ডাল যেমন দলিত সমাজের প্রগতি ও স্বাধিকারের প্রতীক, তেমনই “মারাঠি মানুষ” সেই সকল উচ্চবর্ণের রূপক যারা নিম্নবর্ণের মানুষদের প্রতি জিইয়ে রেখেছে শুধুই অত্যাচার, অবমাননা এবং অপমান।
শেষ তিনটি স্তবক মূলত বিলাপ, তবে এখানেও ফুটে উঠেছে মুক্তির জয়গান। ডঃ আম্বেদকর মারা গেলেও তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যাননি। হিন্দু পুরাণের ইন্দ্রসভা জয় করেছে নবযানী বৌদ্ধবাদ। ভীমবাবা আজ স্বর্গের অধিপতি, ইন্দ্র তাঁর প্রজামাত্র। দলিত সমাজের সোনা, তাঁদের কনকচূড়া, তাঁদের ভগবান হলেন স্বর্গগত বাবাসাহেব, লীলাবাই তাই ধানের অর্ঘ্য সঁপে দেন তাঁর প্রতি।
সর্বশেষ ওভিটিতে আমরা দেখতে পাই যে ভীমবাবার মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহে একটি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং কেমনভাবে তাঁর পিছু পিছু মানুষের ঢল নেমেছিল। লক্ষ লক্ষ দলিত মানুষ ডঃ আম্বেদকরের পদানুসরণ করে হিন্দুধর্মের খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে এসে বৌদ্ধধর্মে মুক্তি খুঁজে পান, এই স্তবক সেদিকেই ইঙ্গিত করে। বাবাসাহেবের পথে তাঁরা শিক্ষা ও স্বাভিমানের হাত ধরে তাঁরা অত্যাচার ও শোষণের থেকে নিজেদের মুক্ত করে বাঁচতে শেখেন।