দুই দুগুণে চার, রাজা তুই গদ্দার!
দুই দুগুণে চার,
চার দুগুণে আট,
আট দুগুণের ষোলকলা হাড়কাটানির মাঠ...
তার সাথে রয় দশ,
হাজার ছশোর প্রাণ,
লালচে সেলেট রাবার পেলেট হাট্টিমাটিম গান...
অঙ্ক খাতাই জানে
আঙুল নাচায় কারা,
রগরগে তার ফুলকি রাগে হাড়কাটানির ছড়া...
ভয় দুগুণের জলে
যোগ বিয়োগের শেষ,
রাম লক্ষ্মণ বুকে আছে কুনকি রাজার দেশ।
চকখড়ি তোর কালো,
শিখলি কী তুই বল,
শ্মশানঘাটে ক্যামনে হাঁটে ব্যালটশিশুর দল?
মার্চ, এপ্রিল, মে,
মুখস্থ কর মাস,
আঁশটানি এই হপ্তা গোনে জলছড়ানির লাশ...
মরশুমি তোর দুখে
নির্বাচনের নাম,
কোন গাঁয়ে তোর চামড়া মেটায় কুনকি রাজার দাম?
ক্লাসরুমে কড়িকাঠে
ঘন্টাচাচার ঢং,
রাখিস মনে দুই দুগুণে আধলা ইঁটের রঙ...
সবেধন দিদিমণি,
শেষ গোসলের শ্লোক,
চক ভেঙে খাই, ভুলিসনে ভাই, হোক পুড়ে ছাই চোখ!
আঁটকুড়ি হাওয়াকলে
গিরিশ স্যারের ক্লাস,
করিস রে বোন আঙার যাপন, সুনিতা ম্যামের লাশ।
জভন্ত্রী মিস কোথা?
রামদাদা? আব্দুল?
কবরে ফাঁপা ফরিদা আপা, কুনকি রাজার ভুল।
নিঃশ্বাসে পরিহাসে
কাফনের অভিনয়,
জিতছে রাজা, দিচ্ছে সাজা, কালসিটে কতিপয়...
দুই দুনি পেনসিলে
কাটাকুটি ইরেজার,
কুনকি রাজার ন্যাংটা আঁধার, বেচে খাবো অধিকার?
নয় দুগুণে ভয়,
গিরিশ স্যারের কথা,
ওই অশরীর সুনিতা দিদির, ক্ষমতার চিলেকোঠা...
জভন্ত্রী ম্যাম নেই?
আব্দুল? রামদাদা?
হয়েছে রে খুন ফরিদা খাতুন, লাল সেলেটের ধাঁধা।
অ আ ক খ কবেকার
সেনোটাফে কথা কয়,
কান্নাকাটির ঘুমপাড়ানির নির্জলা পরিচয়...
এ বি সি ডি ফাঁকা মাঠ,
উনুনের ক্লাসরুম,
তেলচিটে তাই হলদে শিখায় রাত জাগে মাশরুম...
দেশ দেশ দেশ কেন?
দশগুণে ভগবান?
ঠুনকো মাটির ওই যে ফকির, হাড়গিলে পালোয়ান!
প্রশ্ন সে লাখে লাখ
অসুখের অবসর,
বুঝবি সেদিন কোন বেদুইন জ্বেলেছিল কাবাঘর।
ভয় দুগুণে রাগ
পুড়ছে গিরিশ স্যার,
রখ্ রখ্ ইয়াদ সুনিতা মিস্-কি লহু সে লিপটি প্যার।
জভন্ত্রী দিদি কঁহা?
রামদাদা? আব্দুল?
ফরিদা মায়ের উড়কি ছাইয়ের লাশকাটি ইস্কুল।
অডিও: সুধন্য দেশপাণ্ডে জন নাট্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত অভিনেতা ও পরিচালক, একই সঙ্গে তিনি লেফ্টওয়ার্ড বুকস্-এর একজন সম্পাদকও।
অনুবাদ: জশুয়া বোধিনেত্র (শুভঙ্কর দাস)