“অনেক সময়, যখন আমি সবার শেষে বেরোই, ধরুন এই দুপুর ২টো নাগাদ, মাস্টার রোলটা হাতে নিয়েই দৌড় লাগাই। একদমে বাড়ি না পৌঁছনো অবধি হাঁপটুকুও ছাড়ি না। আমাদের সবসময় ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকতে হয়, পিছনে কেউ আসছে কিনা। কিন্তু যতই ভয় থাকুক, আর উপায়ও তো নেই। টাকাটা দরকার,” বলছেন চম্পা রাওয়াত।
মাথার ঘোমটা ঠিক করতে করতে দ্রুত পায়ে হাঁটছেন চম্পা, আর আমায় বলছেন তাঁর থানা গ্রামে মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা যোজনা বা চলতি কথায় মনরেগা যোজনার অধীনস্থ প্রকল্পগুলিতে কীভাবে কাজকারবার চলে। গ্রাম থেকে মোটামুটি এক কিলোমিটার দূরে সেচের খাল কাটা একটা জমি দেখিয়ে বললেন, “এটা আমাদের কাজের জায়গা ছিল। কিন্তু এবারে [২০১৯ সালের এপ্রিলে] কাজ দিয়েছে চার কিলোমিটার দূরের সাইটে, এর চেয়েও ফাঁকা জায়গাটা।” কাজের জায়গায় পায়ে হেঁটে যেতে লাগে এক ঘণ্টা, ফিরতেও তাই। ২০০৫ সালের মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ রোজগার নিশ্চয়তা আইনের অধীনস্থ ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় যোজনাটির ভালো-মন্দ দুইই উঠে আসে চম্পার কাহিনী থেকে। এই যোজনায় ভারতের গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১০০ দিনের মজুরি কাজ জোগানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
রাজস্থানের ভিলওয়ারা জেলায় – যার মণ্ডল তালুকে চম্পার গ্রাম থানা অবস্থিত – এই যোজনা ৮৬২,১৩৩টি পরিবারকে ২০১৯ সালে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) তাদের বড়ো আকাঙ্খিত মজুরি কাজ জুগিয়েছে। ২০১৩ সাল থেকে ধরলে সবমিলিয়ে ভিলওয়ারার প্রায় ৬০ লক্ষ পরিবার কাজ পেয়েছে এই যোজনায়।
সংসার টানতে এই কাজ অন্যতম সম্বল অনেকের, যেমন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ১৯ বছরের মীনা সালভির কথাই ধরা যাক। অসুস্থ বাবা-মায়ের দেখভালের ভার কিশোরী মেয়েটির কাঁধে। কিন্তু ফাঁকা জায়গায় কাজের সমস্যার কথা উল্লেখ করছেন মীনাও। “ভয় করে, কারণ একা হেঁটে ফিরতে হয় তো, বিশেষ করে কাজ থেকে যখন শেষ আমিই বার হই,” বলছেন তিনি।
চম্পার সাইটে কর্মরত মোট ২৫ জন শ্রমিকের সবাই মহিলা। গত মে মাসে এত দূরে কাজ দেওয়ার প্রতিবাদে হরতাল করেছিলেন সকলে। তাঁদের ভয় ছিল, এই বার যদি এরকম ফাঁকা জায়গায় তাঁরা কাজ করতে রাজি হয়ে যান, তবে পরের বার পঞ্চায়েত তাঁদের আরও দূরে কাজে পাঠাবে। “কাছেপিঠে তো অনেক জায়গা আছে যেখানে কাজ দরকার,” বলছেন চম্পা। “যেতে গেলে মাঝের জঙ্গল পেরোনো ছাড়া গতি নেই। কখনও জংলি জানোয়ার থাকে, কখনও মাতাল লোকজন…”, বলছেন ওই একই সাইটে কর্মরত সবিতা রাওয়াত। কিন্তু এক সপ্তাহ বিক্ষোভের পর যাঁদের টাকার খুব দরকার ছিল তাঁরা কাজে ফিরে যান। চম্পার সঙ্গে কয়েকজন টিকে থাকেন, এক মাস পরে তাঁদের অন্য জায়গায় কাজ দেওয়া হয়।








