কিন্তু কামথা গ্রাম এক সপ্তাহের বেশি এই প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেনি। বিকাশের কথায়, "আমরা যতটা সম্ভব টেনে নিয়ে গিয়েছিলাম। মাত্র এক সপ্তাহেই আমাদের তিন ভাইয়ের মোট প্রায় ৮০,০০০ টাকা লোকসান হয়ে গেছে [কারণ আমরা বাজারে মাল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিলাম]।" ৪৩ বছর বয়সি বিকাশ তাঁর নিজের ও অন্য দুই ভাইয়ের কথা বলছিলেন; ২০ একর জমিতে তাঁরা সবজি চাষ করেন এবং পাশাপাশি দুগ্ধ উৎপাদন করেন। তিনি আরও বললেন, "ধর্মঘটের সময় আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করতে এক বছর লেগে যাবে।" পাতাড়ে ভাইদের ওপর এমনিতেই ৮ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে, আর এই বিপুল ক্ষতি সেই গোদের ওপর যেন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওসমানাবাদ ও কালাম্বের বাজার সাত দিন বন্ধ করে এক সপ্তাহের অদম্য লড়াইয়ের পর কামথা গ্রামকে হার মানতে হল। "আমাদের তো পরিবারের দায়িত্ব নিতে হবে," বিকাশের গলায় অসহায়তা স্পষ্ট। এই গ্রামে মূলত সবজি চাষ হয় এবং প্রতিদিন প্রায় ৭০,০০০ টাকার মাল বাজারে যায়। তিনি জানালেন, "এক সপ্তাহ বাজারে কোনও সবজি যায়নি। আমি জানি ১,৭০০ মানুষের একটা গ্রাম রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে নাড়িয়ে দিতে পারে না। কিন্তু আমরা এই আন্দোলনের খুব ছোট্ট হলেও অংশীদার হতে চেয়েছিলাম।"
সাম্প্রতিক এই ধর্মঘটের মূল কেন্দ্র ছিল আহমেদনগর ও নাসিক জেলা। অন্যদিকে মারাঠওয়াড়া ও বিদর্ভের মতো চিরকালীন কৃষি-সংকটে ভোগা এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু মিছিল ও ধর্মঘট হলেও তা দ্রুতই ঝিমিয়ে পড়ে।
মারাঠওয়াড়াতে এই আন্দোলন কেন তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হল না? ওসমানাবাদের কামথার মতো হাতেগোনা কয়েকটি গ্রাম বাদ দিলে, মারাঠওয়াড়ার অন্য পাঁচটি জেলা - বিড, ঔরঙ্গাবাদ, জালনা, লাতুর ও নান্দেদে কৃষকদের প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ ঠান্ডা। কেবল পার্ভানি ও হিঙ্গোলি জেলাতেই কিছুটা দীর্ঘমেয়াদী প্রতিবাদ লক্ষ্য করা গেছে।
এর প্রধান কারণ সম্ভবত এই যে, এই অঞ্চলের মানুষের ধর্মঘট করার মতো আর্থিক সামর্থ্যই নেই। নাসিক বা পশ্চিম মহারাষ্ট্রের কৃষকরা তুলনামূলকভাবে সচ্ছল, কিন্তু মারাঠওয়াড়ার কৃষকরা ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর খরার কবলে পড়েছেন। তীব্র জলকষ্ট তাঁদের খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে।
বিড জেলার লিম্বাগণেশ গ্রামে এক দুপুরে ৪৫ বছর বয়সি মহানন্দা যাদবের সঙ্গে দেখা হল; তিনি তাঁর চার একর জমিতে চিনাবাদাম তোলায় ব্যস্ত ছিলেন। তাঁর অবস্থা অত্যন্ত নড়বড়ে, আর ধর্মঘট করলে তিনি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে পড়তেন। তাঁর কথায়, "গত বছর আমাদের গ্যালান্ডা ফুল পুরোপুরি শুকিয়ে গিয়েছিল। তাতে আমাদের ৫০,০০০ টাকা ক্ষতি হয়। তার ওপর আমরা জমিতে ড্রিপ ইরিগেশন [বিন্দু সেচ ব্যবস্থা] বসিয়েছি এবং বোরওয়েল খুঁড়েছি। ব্যাংকের কাছে এমনিতেই আমাদের ২ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে।"
গ্যালান্ডা চাষে ক্ষতির ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিল আরও এক সমস্যা: "গত বছর আমরা অরহড় ডাল চাষ করেছিলাম, কিন্তু সরকারি কেন্দ্রে অব্যবস্থার কারণে তা বিক্রি করতে পারিনি," মহানন্দা জানালেন। "যদি ওটা বিক্রি করা যেত, তবে ধার না করেই আমরা পরবর্তী মরসুমের জন্য কীটনাশক, বীজ আর সার কিনতে পারতাম।"
মহানন্দার দুই ছেলে (২২ ও ২৫ বছর বয়স) বিড শহরে বি.এসসি পড়ছেন। ধর্মঘটে যোগ দিলে তাঁদের কলেজের বেতন দেওয়ার ক্ষমতাও হারাতেন তিনি। "ওদের প্রত্যেকের জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ করে টাকা খরচ করতে হয় আমাদের," তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন।