“সবাই যদি নিজের নিজের বারান্দায় আর ছাদে খাবার চাষ করত, তাহলে আমাদের কখনও খাদ্যের অভাব হত না।”
এক শহুরে স্কুলের আমন্ত্রণে ছাত্রছাত্রীদের গ্রামীণ ভারত সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমরা এসেছি। এরই মাঝে এক ছাত্রের উক্ত মন্তব্যে সকলে চমকে ওঠে। এক্ষুনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে এড়িয়ে গেলে একটি অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমাদের নৈশব্দে একঘর সুবিধাপ্রাপ্ত তরুণদের কাছে ‘সবাই’ শব্দটি সংজ্ঞায়িত হয়ে যাবে। বরং, আমরা এই মন্তব্যটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূচনা হিসেবে দেখতে পারি। আচ্ছা এমন বাড়িও কি রয়েছে যেখানে বারান্দা, ছাদ অথবা খোলা জায়গার কোনওটারই অস্তিত্ব নেই?
পিপলস আর্কাইভ অফ রুরাল ইন্ডিয়ার (পারি) শিক্ষা বিভাগ, ‘পারি এডুকেশন’ এই মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগিয়ে গতানুগতিক ধ্যানধারণা বা স্টিরিওটাইপগুলি ভেঙে অভিজ্ঞতার পরিধি বাড়াতে চায়। পারির প্রতিবেদনগুলোর মাধ্যমে আমরা শহরের স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীদের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষদের জীবন-যাপন-জীবিকা সম্পর্কে সচেতন করা ও তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল করে তোলার চেষ্টা করে থাকি। পাশাপাশি, আমরা চাই গ্রামের ছাত্রছাত্রীরাও তাদের নিজস্ব সমাজ, সম্প্রদায়ের কথা নথিবদ্ধ করুক এবং পাঠ্যবই গঠনের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ তাদের যাপিত জীবনকে তুলে ধরুক। মারিয়া মন্টেসরি বলেছিলেন, সমাজের পুনর্গঠন সম্ভব শিক্ষার পুনর্গঠনের মাধ্যমেই - যার ফলে ছাত্রছাত্রীরা আমাদের দেশের বহুমাত্রিক বাস্তবকে দেখা, শোনা ও জানার সুযোগ পাবে।
শিক্ষক হিসেবে আমরা উপলব্ধি করেছি যে ছাত্রছাত্রীদের ‘বিশ্ব নাগরিক’ হিসেবে গড়ে তোলার এই তাড়না, তাদের বর্তমান পরিবেশ এবং বড়ো শহরগুলির বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করে তুলছে। ভারতের বহুত্বকে উপেক্ষা করে, পাঠ্যক্রম থেকে তাকে বাদ দিয়ে আমরা এই বার্তাই দিচ্ছি যে এর কোনও মূল্য নেই। পারি’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক পি. সাইনাথ বলেন, “ভারতবর্ষে একটা গোটা প্রজন্ম নিজের দেশেই ভিনদেশি হয়ে বেড়ে উঠছে।”










