২০২১ সালের ডিসেম্বরের এক হিম সকাল। কুয়াশা ঢাকা রাস্তা ধরে বাইক চালিয়ে ৭০ কিলোমিটার দূরে মহারাষ্ট্রের সোলাপুরের জেলা পুলিশ প্রধানের দপ্তরের দিকে পাড়ি দেন অমর থোরবোলে। সঙ্গে ছিল একটা ডিজেলের ক্যান আর একখানা দেশলাই বাক্স।
বাইক দাঁড় করিয়ে ধীর হাতে ক্যানের ঢাকনা খুলে থানার দিকে হাঁটতে হাঁটতেই নিজের সর্বাঙ্গে ডিজেল ঢালেন থোরবোলে। কাঠি ঘষেন, জ্বলে ওঠে আগুন। থানা থেকে পুলিশ বেরোতে আরও খানিক দেরি তখনও।
এই ঘটনার মাস দুয়েক আগে থেকে তাঁর শহর বারসিতে পাওনাদার এজেন্টরা ৩৮ বছরের থোরবোলে ও তাঁর পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল। তিনি যে টাকা ঋণ নিয়েছিলেন, তার পাঁচ গুণ টাকা দাবি করা হচ্ছিল তাঁর থেকে। পুলিশ তাঁর অভিযোগ তদন্ত করে দেখতেও রাজি ছিল না কারণ যে ব্যক্তি তাঁকে ঠকিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ, তার রাজনৈতিক যোগাযোগ প্রচুর।
এক বছর আগে, ২০২০ সালের মে মাসে মারাঠা সম্প্রদায়ভুক্ত থোরবোলে স্থির করেছিলেন তাঁর মুখরোচক জলখাবারের ব্যবসার কলেবর কিছু বাড়াবেন। নিজের সঞ্চয়ের অনেকখানি খরচ করে জমির প্লট কিনেছিলেন একটা। নিজের দোকানে চিরাচরিত পোহা আর বড়ার পাশাপাশি মশলাপাতি বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর; সেই মর্মে ওই জমিতে একটা গুদামঘরও বানাতে চেয়েছিলেন।
৫ লক্ষ টাকা ঋণ নেবেন স্থির করেছিলেন। ঋণের জন্য বেছেছিলেন শিব শক্তি নাগরিক সমবায় ব্যাংককে, কারণ ওই ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার গণেশ বারাঙ্গুলে হলেন থোরবোলের প্রাক্তন চাকরিদাতা যুবরাজ বারাঙ্গুলের ব্যবসার অংশীদার।
এই চেনাজানার কারণে পরে যখন গণেশ থোরবোলেকে “আগের দরখাস্তে ভুল থেকে গেছিল” বলে নতুন করে কিছু কাগজপত্রে সই করতে বলেন, থোরবোলে বা তাঁর স্ত্রী কেউই কোনও সন্দেহ করেননি।
জুলাইয়ের (২০২০) শুরুর দিকে গণেশ তাঁকে জানান যে ঋণটা পাশ হয়ে গেছে, এবং তাঁকে বলেন ঋণশোধের গ্যারান্টি হিসেবে ১০টা সই করা ফাঁকা চেক জমা করে দিতে।
বিনাপ্রশ্নে মেনে নেন দম্পতি। থোরবোলের স্ত্রী, ৩৪ বছরের সুজাতা বলছেন “আমাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। ওদের [গণেশ ও যুবরাজ] বিশ্বাস করেছিলাম।”
বিশ্বাসের জোরে বছরখানেক যায়, তারপরেই ঋণ আদায়ী এজেন্টরা জোর করে বাড়িতে ঢুকে সুজাতাকে এই মর্মে হুমকি দিয়ে যায়, যে থোরবোলে যদি তাঁর ২৫ লক্ষ টাকা ঋণ শোধের কিস্তি সময়মতো জমা না করেন তবে ব্যাংক থেকে তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। “আমি তখন হতবাক,” বলছেন সুজাতা।











