পদব্রজে পান্ধারপুরে তীর্থ করতে চলেছেন এক পিতা, সঙ্গে তাঁর সাত-বছরের ছোট্ট মেয়ে। বাৎসরিক এই তীর্থযাত্রার নাম আষাঢ়ি ওয়ারি — মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার ওয়ারকারি বিট্ঠল দেবের দর্শনে জড়ো হন এই মন্দিরে। চলতে চলতে লাতুর জেলার মহিসগাঁওয়ে শিবির পাতার সিদ্ধান্ত নেন তীর্থযাত্রীরা। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয় কীর্তনের ভক্তিরসে। পুঁচকে মেয়েটির কানে আসে, কাছেপিঠে কোথাও একটা রিনিঝিনি সুরে খঞ্জিরি (খঞ্জনী) বাজছে, ব্যাস, সে বাবার কাছে জেদ ধরে বসে, গান শুনতে তাকে নিয়ে যেতেই হবে!
বাবা কিন্তু মোটেই রাজি হন না। “এখানকার লোকে আমাদের মতো মাহার আর মাঙদের ছুঁতেই চায় না,” আপ্রাণ বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকেন মানুষটি, “ওদের চোখে আমরা নেহাতই ফালতু। আসরে ঢুকতেই দেবে না।” কিন্তু মেয়েটি মানতে নারাজ, গোঁ ধরে বসে আছে। শেষমেশ তার বাবা এই শর্তে রাজি হন যে তাঁরা দূর থেকে দাঁড়িয়ে শুনবেন। খঞ্জনীর শব্দ ধাওয়া করে পিতা-কন্যা পৌঁছে যান প্যান্ডেলে। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকেন, কীর্তন গাইতে গাইতে খঞ্জিরি বাজাচ্ছেন এক মহারাজ। খানিক বাদেই মঞ্চে ওঠার ইচ্ছেটা পোকার মতো নড়ে ওঠে মেয়েটির মাথায়। ছটফট করতে করতে হঠাৎই সে দৌড় লাগায়, একছুটে উঠে যায় মঞ্চে!
স্টেজে পা রেখেই সংগীত পরিবেশক সন্তকে সে বলে, “আমি একখান ভারুড [এক প্রকারের প্রাচীন কবিতা, যা রঙ্গব্যঙ্গাত্মক গানের মাধ্যমে সামাজিক বোধোদয়ের কথা বলে] গাইতে চাই।” দর্শক তো একেবারে হতভম্ব। মহারাজ কিন্তু তাকে গাইতে দিয়েছিলেন। তারপর, মিনিট কয়েক মঞ্চ দখল করে, ধাতব কলসিতে তাল ধরে ওই মহারাজেরই লেখা ও সুরারোপিত একখান গান গায় মেয়েটি।
माझा रहाट गं साजनी
गावू चौघी जनी
माझ्या रहाटाचा कणा
मला चौघी जनी सुना
কুয়োর ’পরে কাঠের চাকা, শোন্ রে প্রিয়জন,
একসঙ্গে চল্ জুড়ব রে গান এই মোরা চারজন।
কাঠের চাকা কাঠের চাকা আর সে চাকার বেড়,
বউমা আমার চারজনা সাঁই, এই হয়েছে ঢের।
খুদে গাইয়ের গান শুনে খুশি হয়ে সন্ত নিজের খঞ্জনীটা তাকে দিয়ে বলেন, “মা, আজীবন আমার আশীর্বাদ থাকবে তোর উপর। তুই তামাম দুনিয়াটার বোধোদয় করবি।”













