ছোট্টো মাংসপিণ্ডটা দিনে দিনে শক্ত হয়ে উঠছে, "একেবারে হাড্ডির মতো," বললেন প্রীতি যাদব।
২০২০ সালের জুলাই নাগাদ প্রীতি হঠাৎই একদিন দেখতে পান যে তাঁর ডান স্তনে মটরকলাইয়ের আকারের একটা মাংসপিণ্ড গজিয়েছে। পাটনা শহরে একটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট আছে, সেখানকার বিশেষজ্ঞরা তাঁকে বলেছিলেন প্রথমে বায়োপ্সি করে তারপর অস্ত্রোপচারের সাহায্যে এই পিণ্ডটা কেটে বাদ দিতে, সেও প্রায় এক বছর হতে চলল আজ।
প্রীতি কিন্তু তারপর থেকে ভুল করেও সেই হাসপাতালের পথ মাড়াননি আর।
"হ্যাঁ হ্যাঁ, সেসব করে নেব ’খন," টালি-ছাওয়া বারান্দায় একটা বাদামি রঙের প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে বললেন তিনি। তাঁর পারিবারিক ভিটেখানা বেশ বড়সড়, লাগোয়া একটা বাগানও রয়েছে ছোটো ছোটো ফুলগাছে ভরা।
মৃদুভাষী এই মেয়েটির গলার ফিসফিসানি থেকে একটা ব্যাপার স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল, বড্ড ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন তিনি। একান্নবর্তী যাদব পরিবার সাম্প্রতিককালেই চার-চারজন সদস্যকে হারিয়েছে ক্যান্সারের কারণে, এবং বিহারের সারন জেলার শোনপুর ব্লকের যে গ্রামটিতে তিনি থাকেন, সেখানে ২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ অতিমারি শুরু হওয়ার আগে মাত্র কয়েকবছরের মধ্যেই একাধিক মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। (তাঁর অনুরোধ অনুযায়ী আমরা গ্রামটির নাম এখানে উল্লেখ করছি না, পাশাপাশি তাঁর নামটিও পাল্টে দেওয়া হয়েছে।)
তবে এই মাংসপিণ্ডটা যে কবে কখন অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হবে সেটা ঠিক করাটা ২৪ বছরের প্রীতির একার হাতে নেই। তাঁর জন্য ছেলে দেখার পালা চলছে যে! পাশের গ্রামে একটি ছেলে থাকে, ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কাজ করে, সম্ভবত তাঁর গলাতেই বরমাল্য ঝুলতে চলেছে। "অপারেশনটা তো বিয়েশাদির পরেও করানো যায়, তাই না? তাছাড়া ডাক্তারবাবু তো বলেছেন, একবার বাচ্চাকাচ্চা হলে এই পিণ্ডটা আপনাআপনি মিলিয়েও যেতে পারে," জানালেন তিনি।
তবে এই যে অস্ত্রোপচারের একটা সম্ভাবনা রয়েছে, এবং তাঁদের পরিবারের এতজন সদস্য যে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন, এসব তথ্য তাঁরা বরপক্ষকে জানাবেন আদৌ? "সেটাই তো বুঝতে পারছি না," অসহায় হয়ে বললেন তিনি। এই গেরোতেই আটকে আছে তাঁর অস্ত্রোপচারের ভবিষ্যৎ।








