অক্টোবরের মাঝমাঝি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে কাটাবেন বাবন তারপর স্বল্প সময়ের জন্য আবার ফিরে যাবেন বিহারে। ফেব্রুয়ারি এলেই আবার আসামের চা বাগানের উদ্দেশে রওনা দেবেন তিনি আর চা পাতা তোলার মরসুমের ছয়-আট মাস ওখানেই কাটাবেন। “আসামের হেন জায়গা নেই যেখানে যাইনি আমি…ডিব্রুগড়, তেজপুর, তিনসুকিয়া, গোলাঘাট, জোড়হাট, গুয়াহাটি,” গড়গড় করে ছোটো-বড়ো শহর-নগরের নাম আউড়ে যান তিনি।
আসামে যে বাঁশের ঝুড়িগুলো তিনি বানান, তাকে বলে ধোকো। ডুলির তুলনায় ধোকো উচ্চতায় অনেক ছোটো – সব মিলিয়ে তিন ফুট। চা পাতা তোলার সময় ব্যবহার হয় এগুলো। মাসে ৪০০টা মতো ঝুড়িও বানান তিনি, প্রায়শই যার ফরমাশ দেয় চা-বাগানগুলো আর সেক্ষেত্রে তাঁর কাজের সময় এস্টেট থেকেই থাকার জায়গা আর কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়।
বাঁশ কা কাম কিয়া, গোবর কা কাম কিয়া, মাটি কা কাম কিয়া, খেতি মে কাম কিয়া, আইসক্রিম কা ভি কাম কিয়া…[বাঁশ দিয়ে কাজ করেছি, মাটি দিয়ে কাজ করেছি, মায় গোবর দিয়ে কাজ করতেও ছাড়িনি। খেতে যেমন কাজ করেছি আইসক্রিম বেচার কাজেও তেমনি পিছপা হইনি।] সারা বছর জুড়ে তাঁর পেশা নিয়ে বলতে গিয়ে এমনই সরস উক্তি করলেন নানান কাজে দক্ষ বাবন।
আসামে ঝুড়ির ফরমাশে ঘাটতি পড়লে তিনি রাজস্থান কিংবা দিল্লি চলে যান আর সেখানে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে আইসক্রিম ফিরি করার কাজে লেগে পড়েন। তাঁর গ্রামের অন্যান্য লোকজনও একই পেশায় জুটলে, তিনি যখন যে কাজের চাহিদা সেই কাজেই ভিড়ে পড়েন দরকার মতো। “রাজস্থান, দিল্লি, আসাম, বাংলা – আমার গোটা জীবনটাই এই জায়গাগুলোর মধ্যে ঘুরেঘুরে কেটে গেল,” বলছেন তিনি।