ফটোগ্রাফির জগৎটা বরাবরই প্রান্তবাসী জনগোষ্ঠীর থেকে দূরে দূরে থেকেছে। ক্যামেরার যা দাম, ওঁদের পক্ষে তো কুলিয়ে ওঠাই অসম্ভব। এই লড়াইকে স্বীকৃতি দিয়ে, শখ ও সাধ্যের ফারাক মিটিয়ে প্রান্তিক সম্প্রদায়ের তরুণ প্রজন্মের হাতের নাগালে ফটোগ্রাফি এনে দেওয়ার বড্ড ইচ্ছে হয়েছিল — বিশেষত দলিত, মৎস্যজীবী, রূপান্তরকামী সমাজ, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়, প্রভৃতি — অর্থাৎ প্রজন্মবাহিত জুলুমের শিকার যাঁরা।
আমি চেয়েছিলাম, আমার ছাত্রছাত্রীরা যেন অগোচরে থাকা নিজেদের গল্পগুলো বলতে পারেন। আমাদের কর্মশালায় তাঁরা আপন আপন দৈনন্দিন জীবনের টুকিটাকি মুহূর্তগুলো ক্যামেরায় তুলে ধরেছেন। এই কাহিনি তাঁদের নিজস্ব, মনের কথা। হাতে ক্যামেরা ধরে খচাখচ ছবি তুলতে বড়োই ভালো লাগে তাঁদের সবার। আমি চাই ওঁরা প্রাণভরে আগে এটাই করে যান, ওসব ফ্রেমিং আর অ্যাঙ্গেল নিয়ে পরে মাথা ঘামালেও চলবে।
যাপিত অভিজ্ঞতা থেকে যে ছবিগুলো তাঁরা তুলে আনেন, সেগুলো এক্কেবারে আলাদা।
ফটোগুলো আমাকে দেখানোমাত্র ছবির রাজনীতি নিয়ে আলোচনা শুরু করি, ছবি কেমনভাবে কোনও নির্দিষ্ট স্থানকালের দলিল হয়ে ওঠে, সেকথা তুলে ধরি। কর্মশালার পর বৃহত্তর সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন হন তাঁরা।





































