ছাদের ঠিক নিচে ঝুলছে একটা হাঁড়ি।
নির্ঘাত ওতে ঔষধি গুণসম্পন্ন জড়িবুটি, পুজোর ফুল-পাতা জাতীয় জিনিসপত্র অথবা চাল ভরা আছে। রাজম গিরি, যিনি এই মুহূর্তে খোলা উঠোনে দোসা বানাতে ব্যস্ত, আশা রাখি কাজ থেকে ফুরসৎ পেলে এই হাঁড়ির রহস্য উদ্ঘাটন করবেন আমার কাছে। শ্বশুরমশাই জি. সিদ্ধাইয়ার সামনে আপাতত তিনি সসম্ভ্রম নীরবতা পালন করছেন।
রাজমের ঠিকানা তামিলনাড়ুর অনিন্দ্য সুন্দর বারগুর পাহাড়ের কোলে ইরোড জেলার উসিমালাই গ্রাম। তাঁদের পরিবারিক জীবিকা পশুপালন। তামিলনাড়ুর পাঁচটি দেশজ প্রজাতির অন্যতম লালচে-সাদা রং বিশিষ্ট, তথা আঞ্চলিক পাহাড়ের নামে পরিচিত বারগুর প্রজাতির গরু পালন করে তাঁরা। সূর্য উঠলেই পুরুষরা বাড়ির গবাদিপশুদের চরাতে নিয়ে যান বনে। আমি বারগুরে এসেছি এই বিশেষ প্রজাতিকে চর্মচক্ষে দেখব বলে, দেশজ গোসম্পদ বিষয়ক এক প্রতিবেদনের কাজে। রাজমের সঙ্গে মোলাকাত হল যখন, তখন বাড়ির সদস্যদের মধ্যে কেবল মেয়ে, বাচ্চা আর বুড়োবুড়িরাই ঘরে ছিলেন।
আর ছিল ছাদের গা ছুঁয়ে ঝুলতে থাকা সেই মাটির হাঁড়ি।





