পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের সুত্রে জানা গেছে যে থানে ও পুণের বাজারে ক্রেতার অভাবে বহু কৃষক তাঁদের ফসল ফেলে দিয়ে এসেছেন।
নাগপুর থেকে ১৬০ কিলোমিটার দুরে অমরাবতীর হিওয়ারখেড় গ্রামের বাজারের স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের কমলালেবুর ফসল রাস্তার মধ্যে উপুড় করে ফেলে দিয়েছেন। ফসলের দামের অস্বাভাবিক কমতির প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ।
ব্যবসায়ীরা ফসল কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় দাম পড়ে গিয়ে এই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা পুরোনো নোট গ্রহণ করছেন না বলে ব্যবসায়ীরা ফসল ক্রয় স্থগিত রেখেছেন।
কিন্তু কৃষকদের এই সংকটজনক দশা কি শুধুমাত্র প্রস্তুতিবিহীন নোটবন্দির কারণে, নাকি কেনাবেচায় ব্যবহারযোগ্য নোটের জন্য জোরাজুরি করে নিজেদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছেন?
এক ব্যবসায়ী সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবার প্রস্তাব দিলে, আমগাঁও গ্রামের পূর্ব সরপঞ্চ, পাওয়ার, সম্মত হন। কোনও ঝামেলা ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে টাকা বিনিময় হয়ে যায়।
পাওয়ার জানালেন যে ওই একই দিনে আরও আটজন কৃষক মান্ডিতে ৮০ কুইন্টল তুলো বিক্রি করেন, পুরোনো নোটের বিনিময়ে। নিয়মিত ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি প্রায় না থাকার ফলে, এক ব্যবসায়ী তাঁদের সব মাল কিনে নেন। চলতি বাজার মূল্য ৪৭৫০ থেকে ৪৯০০-টাকার মধ্যে রয়েছে, কিন্তু এই সব মাল ৫০০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল দরে বিক্রি হয়।
তাহলে অন্য কৃষকেরা এই পন্থা নিচ্ছেন না কেন? এর কারণ পাওয়ার আমাদের খোলসা করে বলেন:
বেশির ভাগ কৃষকেরা তাঁদের উপার্জনের টাকা ব্যাংকে জমা রাখতে চান না, কারণ এই একই ব্যাংক থেকে তাঁরা আগে কৃষি ঋণ নিয়েছেন এবং অনেকেই পুরোনো বকেয়া ফেরত দিতে পারেননি। বহু বছর ধরে ওঁদের উপার্জনের পরিমাণ নিয়মিত রূপে পড়তে থাকায় তা থেকে ঋণ শোধ করতে গেলে সংসারখরচে টান পড়ে।
এই পরিস্থিতিতে যদি রোজগারের পুরো পরিমাণ ব্যাংকে ঢুকে যায়, তাহলে ওঁদের ভয় যে ব্যাংক টাকাটা তুলতে বাধা দেবে। বকেয়া ঋণ বাবদ যে পরিমাণ টাকা মার্চের মধ্যে ফেরত দিতে ওঁরা বাধ্য, সেটা ব্যাংক ধরে রাখতে চাইবে। এর ফলে তাঁরা যে মহা সমস্যায় পড়বেন তা কৃষকেরা বিলক্ষণ জানেন।
কৃষকদের অ্যাকাউন্ট থেকে এইভাবে ঋণের টাকা নিয়ে নেওয়া যেতে পারে সেই মর্মে সরকার থেকে ব্যাংকগুলির কাছে কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি ঠিকই, কিন্তু ব্যাংকগুলি আগেও এই ধরনের চাপ দিয়েছে। এটা তারা জানে যে কৃষকদের প্রতি বছর কৃষি ঋণের প্রয়োজন পড়ে এবং ব্যাংকগুলির থেকে চাষিরা মুখ ফেরাতে পারবেন না।
“আমি ব্যাংকে গিয়ে সরাসরি টাকা নিতে পেরেছি কারণ আমার নামে কোনও ঋণ নেই, এবং নগদ টাকার প্রয়োজনও নেই,” বললেন পাওয়ার। “আমাদের কৃষি ঋণ আমার বাবার নামে হওয়ায় আমার অ্যাকাউন্ট থেকে কিছু কাটা যাবে না।”
অন্য আট বিক্রেতারও নগদ টাকার প্রয়োজন ছিল না বলে তিনি জানালেন। “কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষুদ্র কৃষক যাঁরা শুধু কৃষি কাজই করেন এবং অন্য কোনও উপার্জনের সাধন যাঁদের নেই, তাঁরা চেক অথবা ব্যাংকে সরাসরি টাকা নিতে রাজি হবেন না স্বাভাবিকভাবেই।”
বুধবার, নভেম্বরের ১৬ তারিখে, নাগপুর থেকে ৭০ কিলোমিটার দুরে ওয়ার্ধা জেলার সেলু শহরের মান্ডিতে একমাত্র সুদাম পাওয়ার নামে ৩৮ বছর বয়সি এক কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তিনি ৯ কুইন্টাল তুলো সেদিন বিক্রি করতে এসেছিলেন।
“নোটবন্দির ফলে কৃষকরা বিপর্যস্ত হয়েছে,” বললেন রামকৃষ্ণ উমাথে। নিজেও কৃষক, একই সঙ্গে সেলু শহরের কৃষিপণ্য বাজার কমিটির মান্ডির সহ-সভাপতি উমাথে। আশে পাশের প্রায় ১০০টি গ্রামের মূলত সোয়াবিন ও তুলোর ফসল এই মান্ডিতে আসে। “গত এক সপ্তাহ ধরে, ক্রেতা ও বিক্রেতা কেউই বাজারে আসছেন না।”