জুলাই ৪, অন্য একজন ট্যাক্সিচালকের থেকে ফোন পাওয়া মাত্র তড়িঘড়ি তৎকালে টিকিট কেটে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন শিবপূজন পাণ্ডে।
তার পরদিনই মুম্বইয়ে পৌঁছে যান। তবে শেষরক্ষা হল না, এমন পড়ি কি মরি হয়ে ছুটে এসেও নিজের ট্যাক্সিটাকে বাঁচাতে পারলেন না তিনি।
আসলে অতিমারি ও লকডাউনের কারণে মুম্বই বিমানবন্দরের বাইরে ৪২টি ট্যাক্সি পড়ে ছিল বেওয়ারিশ অবস্থায়, এর মধ্যে শিবপূজনের বাহনটিও ছিল। মুম্বইয়ের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লিমিটেডের বাবুরা সবকটাকে ট্যাক্সিকেই বেচে দিয়েছেন নিলামে।
এভাবেই এক কোপে রুজিরুটি খোয়া যায় শিবপূজনের। ১৯৮৭ থেকে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন তিনি। তারপর ২০০৯ সালে টাকা ধার করে একটা কালো-হলুদ মারুতি ওমনি কেনেন।
"আমাদের সর্বনাশ করে ওদের কী লাভ হল?" তাঁর গলায় স্পষ্টত ঝরে পড়ছিল ক্ষোভ। সাহার বিমানবন্দরের কাছেই একটা ফুটপাথে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন সন্ধ্যাবেলায়। "সারাটা জীবন ধরে ট্যাক্সি চালিয়ে পাই পয়সা জুড়ে যতটুকু জমালাম, একদিনে পুরোটা কেড়ে নিল। এমন আকালের সময় এর চেয়ে বড়ো ক্ষতি আর হতে পারে না।"
সাম্প্রতিক কালের এই সর্বনাশটি যাঁদের যাঁদের হয়েছে তাঁদের মধ্যে সঞ্জয় মালিও আছেন। মার্চ ২০২০ থেকে তাঁর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ওয়াগন-আর গাড়িটি দাঁড় করানো ছিল উত্তর মুম্বইয়ের মারোল মহল্লার আন্নাওয়াড়িতে স্থিত একটি প্রকাণ্ড পার্কিং স্থলে, জায়গাটা সাহার বিমানবন্দরের বেশ কাছেই।
২৯শে জুন ২০২১, তাঁর ট্যাক্সিটিকে পার্কিং স্থল থেকে নিয়ে চলে যায় প্রশাসন, তিনি জানতেও পারেননি। খবরটা এক বন্ধুর থেকে পেয়েছিলেন তার পরের দিন। "কী যে হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারিনি তখন," জানালেন সঞ্জয় (৪২)।














