লকডাউনের সময়, লক্ষ্মণের পরিবার সমেত বস্তির অনেকগুলো পরিবারের হাতে কোনও কাজ ও রোজগারের উপায় না থাকায় তারা নিজেদের গ্রামে ফিরে যায়। গ্রামেও ওরা মাঝে মাঝে এই কাজ করে থাকেন, কিন্তু সেখানে ৫০ বা ১০০ টাকার বেশি আয় করা বেশ দুষ্কর। সম্প্রদায়ের জনৈক সদস্যের কাছে আমি একথাও জানতে পারলাম যে লকডাউনের সময় অনেক রাত তাঁরা না খেয়ে কাটিয়েছেন। বান্দ্রা টার্মিনাস সংলগ্ন বস্তির অনেক পরিবার ফিরে এলেও, লক্ষ্মণ তাঁর পরিবারকে নিয়ে এখনও গ্রামেই রয়েছেন। মার্চ মাসের শেষের দিকে তাঁরা আবার হয়তো মুম্বইয়ে ফিরতে পারেন।
লক্ষ্মণ চান তাঁর ছেলেমেয়েরা গ্রামে থেকেই পড়াশোনা করুক। তিনি বলছিলেন, “আমার ছেলে যদি পালিয়ে না যায় আর ঠিক করে পড়াশোনা করতে পারে, তাহলে হয়তো ওর জীবন একটু ভদ্রস্থ হবে।” আসলে লক্ষ্মণের ভাই হনুমন্তা স্কুল থেকে নিয়মিত পালিয়ে বাড়ি চলে আসত। তাঁদের সম্প্রদায়ের অনেক বাচ্চাই নিজেদের পড়াশোনা অসম্পুর্ণ রেখেই স্কুল-জীবনে ইতি টেনে দেয়। গ্রামের স্কুলে শুধুমাত্র একজন শিক্ষক কাজ করেন, তার উপর নিয়মিত ক্লাসও হয় না। রেখা বলছিলেন, “আমি চাই ওরা গ্রামে পড়াশোনা করে দোকানে বা কল সেন্টারে কাজ করুক। মুম্বইয়ে পুলিশ আমাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় খেদিয়ে দেয়। এই অবস্থায় আমার বাচ্চারা কোথায় পড়তে যাবে?”
লক্ষ্মণ ও রেখার মেয়ে রেশমার বয়স এখন পাঁচ। ছেলে রাহুলের বয়স তিন। সন্তানদের মধ্যে সবচেয়ে ছোটো করণের জন্ম হয়েছে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে। বাচ্চাদের তাঁরা এখনও কোনও স্কুলে ভর্তি করেননি। রেখা ও লক্ষ্মণ নিজেরাও কখনও স্কুলে পা রাখেননি। লক্ষ্মণের ছোটো ভাই ইলাপ্পার নাম গ্রামের স্কুলে লেখানো থাকলেও, অনেক সময়েই সে মুম্বইয়ে পরিবারের বাকিদের সঙ্গে নাচতে চলে আসে। “আমি জানিনা আমি কী করব, কিন্তু বড়ো মানুষ হতে চাই,” ইলাপ্পা বলেছিল।
কোদাম্বল গ্রামে, কোনও বাচ্চা নাচের এই কাজ শুরু করার আগে তার পরিবার প্রথমে মারিয়াম্মা দেবীর পুজো করে ও আশীর্বাদ নেয়। প্রায় মেলার মতো আয়োজন করা হয়, বিভিন্ন আচারের মধ্যে একটা ছাগলও উৎসর্গ করা হয়। লক্ষ্মণের কথায়, “আমাদের দেবীকে জানাই যে আমরা মুম্বইয়ে যাচ্ছি জীবিকার জন্য, তিনি যেন আমাদের রক্ষা করেন। মনে এই ভক্তি আর বিশ্বাস নিয়েই আমরা এখানে কাজে ফিরে আসি।”
লক্ষ্মণ তাঁর পরিবার সমেত এখনও গ্রামেই আছেন, হয়তো মার্চ মাসের শেষের দিকে তাঁরা মুম্বইয়ে ফিরে আসবেন।