একদিকে তাঁদের যৌন চাহিদা অস্বীকার করা হয়, অথচ প্রতিবন্ধী মহিলা এবং মেয়েরা বহু সময়ে যৌন আক্রমণ ও নিপীড়নের শিকার হন। মলন এবং তাঁর তুতো বোন, ৩৮ বছর বয়সী রূপালী (নাম পরিবর্তিত), যিনি মানসিক প্রতিবন্ধী - দুজনকেই গ্রামের ছেলেদের হাতে আক্রান্ত এবং হেনস্তা হতে হয়েছে হয়েছে তাঁদের যৌবনকালে। “কোনও কোনও ছেলে টিটকারি দিত, কেউ ওদের শরীর স্পর্শ করার চেষ্টা করত, কেউবা বাড়িতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা না থাকাকালীন এসে হাজির হত,” রহিবাঈ আমাকে জানালেন। তিনি সর্বদা এই নির্যাতন তার ফলাফলের ভয় দিন কাটাতেন।
কিন্তু রহিবাঈ নিজের দুশ্চিন্তা নিয়ে গুমড়ে থাকেননি। ওয়াদি গ্রামের ৯৪০ জন মানুষের মধ্যে ছয়জনের কোনও না কোনও ধরনের মানসিক প্রতিবন্ধকতা আছে - এঁদের মধ্যে মলন সহ দুইজন মহিলা ও চার জন পুরুষ। রহিবাঈ গ্রামের একটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য, সেই গোষ্ঠীর মহিলারা সম্মিলিতভাবে গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে এই বিশেষ বন্ধুদের জন্য দেবরাঈ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। ছয়জন ‘বিশেষ বন্ধুর’ জন্য বিনোদনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে ও (নিজেদের যত্ন নেওয়া সহ) বিবিধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে, সপ্তাহে দুদিন, ওয়াদি থেকে ময়ূরী গাইকওয়াড় এবং সাধনা গ্রাম থেকে শলন কাম্বলে এখানে আসেন। “গ্রামের কেউ কেউ আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করে কারণ ওরা ভাবে যে এই ‘পাগল’ ছেলে-মেয়েদের কিছু শেখানোই বৃথা। কিন্তু আমরা মোটেও থেমে যাব না,” বললেন ময়ূরী।
“আমি তৈরি করেছি”, এই কাজের অঙ্গ হিসাবে সবুজ-সাদা পুঁথি দিয়ে বানানো একটা মালা সগর্বে তুলে ধরে মলন বললেন।
আর পাঁচটা গড়পড়তা দিনে মলন বাড়ির কাজ বাবদ কল থেকে ড্রামে জল ভরে আনেন পরিবারের ব্যবহারের জন্য আর স্নান করেন। তারপর যথারীতি মাটির উনানে খানিক চা চলকে ফেলে মায়ের কাছে বকুনি খান।
তারপর এইভাবেই, স্নেহময় পরিবারের ছত্রছায়ায়, ঝলমলে রাঙা ব্লাউজ আর প্রিয় গোড়ালি অবধি ঝুলের স্কার্টটা পরে মলন আরেকটা দিনের সম্মুখীন হন।
নিবন্ধকার তথাপি ট্রাস্টের অছি-সদস্য, বিগত ১৮ বছর তিনি তথাপির সঙ্গে যুক্ত আছেন।
সাধনা ভিলেজ-এর মেধা টেংশে, বিজয়া কুলকর্ণি এবং পুণের তথাপি ট্রাস্টের আছুত বোরগাভকারকে নিবন্ধকারের সকৃতজ্ঞ ধন্যবাদ।
প্রচ্ছদ চিত্র: নিউ-মিডিয়া শিল্পী প্রিয়াঙ্কা বোরার নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে ভাব এবং অভিব্যক্তিকে নতুন রূপে আবিষ্কার করার কাজে নিয়োজিত আছেন। তিনি শেখা তথা খেলার জন্য নতুন নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি করছেন; ইন্টারেক্টিভ মিডিয়ায় তাঁর সমান বিচরণ এবং সেই সঙ্গে কলম আর কাগজের চিরাচরিত মাধ্যমেও তিনি একই রকম দক্ষ।
পারি এবং কাউন্টার মিডিয়া ট্রাস্টের গ্রামীণ ভারতের কিশোরী এবং তরুণীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত দেশব্যাপী রিপোর্টিং প্রকল্পটি পপুলেশন ফাউন্ডেশন সমর্থিত একটি যৌথ উদ্যোগের অংশ যার লক্ষ্য প্রান্তবাসী এই মেয়েদের এবং সাধারণ মানুষের স্বর এবং যাপিত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই অত্যন্ত জরুরি বিষয়টিকে ঘিরে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা।
নিবন্ধটি পুনঃপ্রকাশ করতে চাইলে [email protected] – এই ইমেল আইডিতে লিখুন এবং সঙ্গে সিসি করুন [email protected] – এই আইডিতে।
অনুবাদ: চিলকা