"এক মিনট ভি লেট নহি হো সকতে ওয়রনা হমারি ক্লাস লগ জায়েগি" [এক মিনিটও দেরি করতে পারব না, নয়ত আমার বারোটা বেজে যাবে], লখনউ ক্যান্টনমেন্ট বিধানসভা কেন্দ্রের মহানগর পাবলিক ইন্টার-কলেজের পথে হন্তদন্ত পায়ে হাঁটা লাগিয়ে বলে উঠলেন রীতা বাজপাই। এই বুথেই নির্বাচনী দ্বায়িত্ব সামলাতে হবে তাঁকে – অবশ্য তাঁর নিজের ভোট এই কেন্দ্রে নয়।
বাড়ি থেকে এই কলেজের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। ভোর ৫.৩০ বাজে, তড়িঘড়ি হেঁটে চলা এই মানুষটার ঘাড়ে পেল্লায় সাইজের এক ব্যাগ, তাতে রয়েছে ডিজিটাল থার্মোমিটার, বোতলভরা স্যানিটাইজার, বেশ কয়েক জোড়া ডিস্পোসেবল্ দস্তানা এবং সুরক্ষা মুখোশ – কেন্দ্রে পৌঁছে বিতরণ করতে হবে এগুলো। ইউপির বিধানসভা নির্বাচনের চতুর্থ পর্যায়ে নয়খানি রাজ্য জুড়ে ৫৯টি কেন্দ্রের মধ্যে নাম রয়েছে লখনউয়ের, সুতরাং তিনি যে আজ সারাটাদিন নাকানিচোবানি খেতে চলেছেন, সেটা দিব্যি ঠাহর হচ্ছিল।
হ্যাঁ, ইউপির ভোটগ্রহণ শেষ, ফলাফলও বেরিয়ে গেছে, তবে বিশাল সংখ্যক মহিলা আজ এক অন্য পরীক্ষার ফলাফলের পথ চেয়ে আছেন – এ পরীক্ষা যে কতটা দুশ্চিন্তার সেটা হাড়ে হাড়ে জানেন তাঁরা, যমে-মানুষে টানাটানি হওয়াটাও আশ্চর্যের নয়। ভারতের সবচাইতে জনবহুল রাজ্যের বিধানসভা ভোট সামলাতে গিয়ে যে ঝুঁকিটা তাঁরা নিয়েছেন, সেটা যে কতটা মারাত্মক তা বোঝা যাবে ওই পরীক্ষায়।
লিখিত কোনও সরকারি আদেশ ছাড়াই ১৬৩,৪০৭ জন আশাকর্মী (অ্যাক্রেডিটেড সোশ্যাল হেল্থ অ্যাক্টিভিস্ট) বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাচনী বুথে কাজ করতে। তবে আসল প্যাঁচটা কোথায় ছিল জানেন? বুথে বুথে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করার দ্বায়িত্ব যাঁদের ঘাড়ে, নিজেদের সুরক্ষিত রাখার কোনও সাজ-সরঞ্জামই জোটেনি তাঁদের। কোন রাজ্যে জানেন? যেখানে ২০২১ সালের এপ্রিল-মে মাসে প্রায় ২,০০০ জন ইস্কুল শিক্ষকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল কোভিড-১৯। সে বছর এপ্রিলে যখন অতিমারির কবলে ছারখার হয়ে যাচ্ছে গোটা দেশ, তখন ইচ্ছার বিরুদ্ধেই একরকম বাধ্য হয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দায়-দায়িত্ব তাঁদের সামলাতে হয়েছিল।










