ঔপনিবেশিকতা এবং দেশভাগের সর্বনাশা ছায়া আসামে আজও আঁধার নিয়ে আসে নানান রূপে। এই মুহূর্তে তার সবচেয়ে প্রকট রূপটি হল ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেন্স বা এনআরসি, এমন এক নাগরিকত্ব পঞ্জীকরণ প্রকল্প যা প্রায় ১৯ লক্ষ মানুষকে রাষ্ট্রহীন করে দিতে পারে। এরই একটা রূপ হল সাম্প্রতিককালে ‘সন্দেহভাজন বা ডাউটফুল (ডি)-ভোটার’ নামে শ্রেণির সৃষ্টি এবং উক্ত শ্রেণিতে পড়া মানুষদের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি করার ঘটনা। নব্বই দশকের শেষভাগে আসাম জুড়ে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা হরেক ফরেনার ট্রাইবুনাল এবং ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (Citizenship Amendment Act বা CAA) পাস হয়ে যাওয়ার ঘটনা রাজ্যে নাগরিকত্বের সংকটকে তীব্রতর করে তুলেছে।
এই ঘটমান বিপর্যয়ের ফাঁদে আটকে পড়া ছয় জন মানুষের মৌখিক জবানবন্দি আমাদের দেখায় মানুষের ব্যক্তিজীবন তথা ইতিহাসে এর ভয়াবহ প্রভাব। আট বছর বয়সে নেলি গণহত্যার কোপ থেকে বেঁচে ফেরা রশিদা বেগম এনআরসির তালিকায় নিজের নাম খুঁজে পাননি, যদিও তাঁর পরিবারের বাকি সব সদস্যর সেখানে নাম আছে। নাম বাদ পড়েছে শাহজাহান আলি আহমেদেরও, এবং তাঁর পরিবারের বহু সদস্যের। বর্তমানে আসামে নাগরিকত্ব ঘিরে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত তিনি।


