সেদিন বালাজি হট্টাগলে আখ কাটছিলেন। আর তার পরের দিন থেকে তিনি বেপাত্তা। তাঁর বাবা-মা হাজার চেষ্টা করেও এর বেশি কিছু জানতে পারেননি। “এই অনিশ্চয়তা আমাদের শেষ করে দিচ্ছে,” বললেন বালাজির বাবা, বাবাসাহেব হট্টাগলে। এক মেঘলা দুপুরে, তাঁদের এক-কামরার ইটের বাড়ির উপর এক খণ্ড মেঘ জমা হয়ে যেন বা বাবাসাহেবের মনে ঘনিয়ে ওঠা বিষাদেরই আভাস দিচ্ছিল। বিষন্ন গলায় তিনি বললেন, “আমরা এটুকুই শুধু জানতে চাই ও বেঁচে আছে কিনা।”
২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বাবাসাহেব ও তাঁর স্ত্রী, সংগীতা শেষবারের মতো তাঁদের ২২ বছরের ছেলেটিকে দেখেছেন। মহারাষ্ট্রের বীড জেলার কড়িওয়াড়গাঁও থেকে কর্ণাটকের বেলাগাভি (বেলগাঁও) জেলার আখ খেতে কাজ করতে গিয়েছিলেন বালাজি।
মারাঠাওয়াড়া থেকে পশ্চিম মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে যে লক্ষাধিক শ্রমিক ছয় মাসের জন্য আখ কাটতে যান তিনি ছিলেন তাঁদেরই একজন। প্রতি বছর দিওয়ালির পর নভেম্বরে তাঁরা যান আর ফিরে আসেন মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে। বালাজি এবছর আর ফিরলেন না।
প্রায় দুই দশক ধরে তাঁর মা-বাবা যা করে চলেছেন, বালাজি এইবারই প্রথম গিয়েছিলেন সেই একই কাজ করতে। বাবাসাহেব জানালেন, “আমি আর আমার স্ত্রী প্রায় ২০ বছর ধরে আখ কাটতে যাচ্ছি। দুজনে মিলে আমরা ৬০,০০০-৭০,০০০ টাকা রোজগার করি প্রতি মরশুমে। আমাদের বাঁধা উপার্জন বলতে এটাই আছে শুধু। বীড জেলায় দিনমজুরির কাজ পাওয়া যাবে এমন কোনও নিশ্চয়তা এমনিতেই থাকে না, তার উপর কোভিড এসে অবস্থা আরও খারাপ করে তুলেছে।”
অতিমারির সময়ে, নির্মাণ ক্ষেত্রে অথবা খেত-খামারে মজুরির ভিত্তিতে কাজ জোটানো পরবারটির পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। “২০২০ সালের মার্চ থেকে নভেম্বরের মধ্যে আমরা তেমন কিছু রোজগার করে উঠতেই পারিনি,” বললেন বাবাসাহেব। কোভিড-১৯ এর আগে, বীড জেলার ওয়াদওয়াণি তালুকে নিজেদের গ্রামে থাকলে বাবাসাহেব, সপ্তাহে ২-৩ দিন কাজ করে দিনে ৩০০ টাকা করে আয় করতেন।
কাজ করতে বাইরে যাওয়ার সময় হলে বাবাসাহেবের মা অসুস্থ থাকায় তাঁর দেখাশুনার জন্য, এ বছর বাবাসাহেব আর সংগীতা না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। “কিন্তু পেটের তাগিদে কিছু একটা তো না করলেই নয়, কাজেই এইবার যায় আমার ছেলে,” বললেন বাবাসাহেব।









