গণেশ ওয়াড়ন্দ্রের জমিতে একটা নিস্তেজ তুলো গাছের সবুজ শুঁটির গায়ে কালো কালো ফুটকি দাগগুলো ‘সাদা সোনা’র ওপর গবেষণারত বিজ্ঞানীদের বার্তা দিচ্ছে: এবার নতুন দাওয়াইয়ের সন্ধানে উঠেপড়ে লাগতে হবে।
“ওই ফুটোগুলোই আসলে ঢোকার রাস্তা,” বলছিলেন ওয়াড়ন্দ্রে ভাউ। ওয়ার্ধা জেলার আমগাঁও (খুর্দ) গ্রামে বেশ নামডাক আছে পাঁচ একর জমির মালিক এই কৃষকের। তাঁর মতে, নির্ঘাত এই ছিদ্রপথেই শুঁটির ভেতর গর্ত কেটে পোকাটা সেঁধিয়ে যায়।
“যদি ফাটিয়ে খুলি, দেখবেন একটা গোলাপি কেন্নো ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে,” যুগপৎ রাগ ও ভয় ফুটলো তাঁর কথায়। যেই না তিনি শুঁটিটা ফাটালেন, অমনি একটা গোলাপি রঙের পোকা, লম্বায় বুঝি এক সেন্টিমিটারও হবে না, কিলবিলিয়ে মাথা তুললো, এক্ষুনি যেন বলে উঠবে– 'কি হে! খবর কী?'। তুলোর সাদা রোঁয়া ধরার আগেই শুঁটিটাকে কুরে খেয়ে নষ্ট করে ফেলেছেন বাছাধন, ওটা আর কোনও কাজেই লাগবে না।
২০১৭ সালের নভেম্বরে আমার সঙ্গে প্রথম আলাপ ওয়াড়ন্দ্রে ভাউয়ের। “একটা পোকা,” স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন বছর বিয়াল্লিশের এই কৃষক, "হাজারখানেক ডিম পাড়ে আর কয়েকদিনেই নিজেদের সংখ্যা ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে লক্ষ লক্ষ কীটের আমদানি করে ফেলে।”
যেহেতু পোকাটা শুঁটির ভেতরে থাকে, তাই সেগুলো না ফাটা পর্যন্ত কৃষকের জানার কোনও উপায় থাকে না কী সর্বনাশ ঘটেছে। এইজন্য ফসল তোলার সময় অথবা সোজা বাজারচত্বরে এসে মাথায় বাজ পড়ে, এই শুঁটিপোকা-খাওয়া তুলো অনেক কম পয়সায় বিকিয়ে যায় তখন।
ওয়াড়ন্দ্রে ভাউয়ের কথাগুলো যেন সারা মহারাষ্ট্রের তুলো চাষিদের বয়ান হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যে সময়টায় ফসল কাটার ধুম লেগে যায়, ২০১৭-১৮-এর সেই শীতের মরসুম জুড়ে পশ্চিম বিদর্ভর তুলো বলয়ের কৃষকদের হালহকিকত মালুম পড়ে তা থেকে। এ অঞ্চলে জুলাই-অগস্ট মাসের মধ্যে তুলোর বীজ রোয়া হয় এবং ফসল তোলা হয় অক্টোবর থেকে মার্চের মধ্যে।
ঝাঁক ঝাঁক গোলাপি কীটবাহিনীর আক্রমণে বহু হেক্টর তুলো জমি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। গত তিরিশ বছরেও এমন বেহাল দশা দেখা যায়নি। ওয়াড়ন্দ্রে ভাউয়ের জমির আশপাশের খেতজুড়ে সেই গোলাপি কীট চড়াও হবার নিশানগুলো স্পষ্ট: কালো শুঁটি, নিস্তেজ আর দাগে ভরা। তার মধ্যে থেকে ফুটে উঠছে শুকনো, কালচে, নিম্নমানের ও কম দামি রোঁয়া।
এই পোকার জ্বালাতেই ২০১৭ সালের জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে মহারাষ্ট্র জুড়ে তুলোর ফসল বাঁচাতে মরিয়া কৃষকেরা প্রচুর পরিমাণে কীটনাশকের প্রাণঘাতী ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছিলেন। যদিও তাঁরা জানতেন এসব দিয়ে ওই গোলাপি-কীটের ঝাঁককে নিশ্চিহ্ন করে ফেলা যাবে না। (দেখুন মারণ কীট, প্রাণঘাতী কীটনাশক)
“কোনও কীটনাশকই কাজ দেয় না এতে,” ক্ষুব্ধকণ্ঠে ওয়াড়ন্দ্রে ভাউ বললেন। “এ এমনই মারাত্মক। এখন আর বিটি-তুলো দিয়ে হবেটা কী?”










