দলিত কলোনির মানুষজনের কাছে অভাব অনটন নতুন কিছু নয়। পুরুষদের মধ্যে অনেকেই এলাকার বিভিন্ন গ্রামে বন্ধুয়া মজদুর হিসেবে কাজ করতেন ১৯৯০-এর আগে। আজকের পরিস্থিতি তাঁদের মনে সেই সবদিনগুলোর স্মৃতি বয়ে আনছে। তবু তাঁরা মনে করেন, আজকের পরিস্থিতি আগের থেকে কম শোচনীয়। ৪৯-বয়সি নারায়ণাপ্পা জানলেন, “আজকের এই অনটন [নোটবন্দির জন্য] ৩০ বছর আগের সেই খরার চাইতে ভালো। আমি যখন ২০-এর কোঠায়, আমরা প্রায়শই টানা তিন-চার দিন না খেয়ে থাকতাম। তেঁতুল বীজ জলে ভিজিয়ে রেখে খেতাম, কিংবা তাল গাছের কন্দ খেয়ে কাটাতাম। ওই সময়, আমি টানা ১৪ বছর জীথাগাড়ু [বন্ধুয়া মজুর] ছিলাম।”
আগে যাঁরা বন্ধুয়া মজুর ছিলেন, তাঁরাই এখন কাজের খোঁজে প্রতিবছর বেশ কয়েক মাসের জন্য বাইরে চলে যান, বিশেষ করে গ্রামে কৃষিক্ষেত্রে কাজের সুযোগ কমে আসার পরে। নারায়ণাপ্পার পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যই বেঙ্গালুরু চলে যান, ৩-৪ মাস অন্তর অল্প দিনের জন্য বাড়ি আসেন। শহরে তাঁরা সাধারণত বিভিন্ন নির্মাণ প্রকল্পে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন, যেখানে কাজ হয় সেই নির্মীয়মাণ বাড়িতেই তাঁরা থাকেন, কিংবা রাস্তার ধারের অপরিসর ঘুপচি ঘরে বাস করেন। তবু, পারিশ্রমিক বাবদ যে টাকা মিলত, তাতে অন্তত তাঁদের দু-বেলা ভরপেট খাবার ব্যবস্থা করার মতো সাধ্যটুকু থাকত। নারায়ণাপ্পা বললেন, “আমরা সপ্তাহে দু-বার মাংস খেতে পারতাম।” নোটবন্দির পর এইসবই পাল্টে গেছে।
নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বুচারলায় বাড়ি ফেরার পর যখন দেখলেন জমিতে খেতমজুরের আর কোনও কাজ নেই, তখন নারায়ণাপ্পার পরিবার নিজেদের সঞ্চয়টুকু দিয়েই যাবতীয় খরচা চালাতে বাধ্য হল। গ্রামের অন্যান্য জাতির মানুষজনের হাল সামান্য ভালো ছিল কারণ তাঁরা মজুত শস্য আর সঞ্চিত টাকা-পয়সা পরস্পরের মধ্যে ভাগ করতে পারছিলেন। নারায়ণাপ্পাদের জাতের লোকজনের হাতে রসদও কম, আর তাঁদের পক্ষে গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দাদের থেকে ঋণ নেওয়াও সহজ নয়।
কেন তাঁর সমাজের মানুষজনের পক্ষে অপ্রতিষ্ঠানিক সূত্র থেকে টাকা ধার করাটা কঠিন ব্যাপার, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বুচারলায় নিজের বাড়িতে বসে নারায়ণাপ্পা বললেন, “আমরা যে আম্বেদকরের মানুষ।” নিজের জাতির নাম (মাদিগা) উল্লেখ না করার চেষ্টা করছিলেন তিনি কারণ তেলুগু ভাষায় এই শব্দটি কখনও কখনও অপমানসূচক ডাক হিসেবে ব্যবহার হয়। এছাড়াও নিজেকে খুব লাচার হিসেবে দেখাতেও নারাজ তিনি। তাঁর কথায়, “আজ আমাদেরও মানসম্মান আছে। কেউ খাবার দিলেও আমরা সেটা নিই না। হয়তো আমরা কম খেয়েই আছি। তবু তাদের বলি আমাদের পেট ভরা আছে।”