নাল্লাকান্নু “জন্ম শ্রীবৈকুণ্ঠমে, তখনকার তিরুনেলভেলি জেলায়।” বর্তমানে শ্রীবৈকুণ্ঠম তালুক তামিলনাড়ুর থুথুকুডি জেলার অধীন (১৯৭৭ সাল পর্যন্ত যেটি তুতিকোরিন নামে পরিচিত ছিল)।
নাল্লাকান্নু অবশ্য খুব অল্পবয়সেই আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
“আমি নেহাতই শিশু তখনও। আমাদের শহরের কাছেই থুথুকুড়ির কারখানা শ্রমিকরা ধর্মঘটে বসেছিলেন। সেটা ছিল হার্ভে মিলস গ্রুপের একটা কারখানা। এটি পরে পাঁচলাই [কাপড়কল] শ্রমিক ধর্মঘট নামে পরিচিত হয়।
“ঠিক হল তাঁদের সমর্থনে আমাদের শহরের সব বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাল সংগ্রহ করা হবে, তারপর বাক্সে ভরে থুথুকুড়িতে ধর্মঘটরত শ্রমিকদের পরিবারগুলির কাছে পাঠানো হবে। আমাদের মতো ছোটো ছেলেপুলেরা চাল জোগাড় করতে যেত।” গরিব মানুষজন, “কিন্তু সব বাড়ি থেকেই কিছু না কিছু সাহায্য করত। তখন আমার বয়স সবে পাঁচ কি ছয়, তবু শ্রমিকদের সংগ্রামের প্রতি এই সংহতি আমাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। যার ফলস্বরূপ, অল্পবয়সেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়াটা আমার জন্য একরকম দস্তুর হয়ে গেল।”
আমরা তাঁকে ১৯৩৭ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গে ফিরিয়ে নিয়ে আসি: আচ্ছা, মঞ্জল পেট্টি বা হলুদ বাক্সে ভোট দেওয়ার ব্যাপারটা থেকে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছিলেন?
“মাদ্রাজে তখন দুটি প্রধান দল,” বলে চলেন তিনি, “কংগ্রেস আর জাস্টিস পার্টি। দলীয় প্রতীকের বদলে কয়েকটি নির্দিষ্ট রঙের ব্যালট বাক্স দিয়ে দলগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কংগ্রেস পার্টি, যার জন্য আমরা তখন প্রচারে নেমেছিলাম, তার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল হলুদ বাক্স। ওদিকে জাস্টিস পার্টির জন্য নির্ধারিত ছিল পাচ্চাই পেট্টি অর্থাৎ সবুজ বাক্স। যে দলটিকে ভোটাররা সমর্থন করবেন তাকে শনাক্ত করার এটাই ছিল মোক্ষম উপায়।”
আর হ্যাঁ, তখনও নির্বাচন ঘিরে রঙিন মেজাজ আর নাটকের অভাব ছিল না। দ্য হিন্দু জানাচ্ছে, “প্রচারে নামা দেবদাসী তাঞ্জাভুর কামুকান্নামল . . সবাইকে “নস্যির কৌটে” ভোট দিতে অনুরোধ করেছিলেন! তখনকার দিনে নস্যির কৌটো সাধারণত সোনালি বা হলদে রঙের হত। খোদ দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত একটি শিরোনামে পাঠকদের “হলুদ বাক্স ভরিয়ে তুলুন” বলে ডাক দেওয়া হয়।”
“হ্যাঁ, আমি তো আর ১২ বছর বয়সে ভোট দিতে পারিনি,” বলছেন নাল্লাকান্নু, “তবে ঘরের বাইরে বেরিয়ে আমার সর্বশক্তি দিয়ে অবশ্যই প্রচার করেছি।” আর ঠিক তিন বছর পরেই, তিনি নির্বাচন ছাড়িয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচারে নামবেন। তার সঙ্গে চলবে “পারাই (ড্রাম জাতীয় বাদ্য) পিটিয়ে স্লোগান দেওয়ার পালা।”