টাক্-টাক্-টাক্!
কান পাতলে বেশ শোনা যায়, কোড়াভাটিপুড়ির ত্রিপল ঢাকা কুঁড়েটা থেকে তালে তালে শব্দ উঠছে। মৌলমপাকা ভদ্ররাজু মাটির পাত্র গড়ছেন সাবেকি চাক্কা সুত্তি দিয়ে। ছোটো প্যাডেল সদৃশ কাঠের হাতুড়ির মতো এই চাক্কা সুত্তি মৃৎপাত্রে নিখুঁত গোল আকার এনে দিতে কাজে আসে।
“পাত্রের তলা বুজিয়ে দিতে মোটা চাক্কা সুত্তিখানা কাজে লাগে। আর সাধারণভাবে ব্যবহার হওয়া এইটা দিয়ে তলদেশ মসৃণ হয় আরও। শেষে গোটা পাত্রটাকেই মসৃণ করার জন্য থাকে এক্কেবারে পাতলা এই চাক্কা সুত্তিটা,” বৃদ্ধ ভদ্ররাজু যথাসম্ভব সহজ করে বুঝিয়ে দিতে থাকেন। যখন যেমন দরকার সেই অনুযায়ী হাতুড়ি বদলে নেন এই কারিগর। তিনি এও জানালেন যে তাল (বোরাসুস ফ্ল্যাবেল্লিফার) গাছের শাখা থেকে সাধারণ আকারের পাতলা গোছের চাক্কা সুত্তিটা তৈরি হয় আর সবচেয়ে পুরু সুত্তিটার জন্য লাগে অর্জুন (টারমিনালিয়া অর্জুনা) গাছের ডাল। বলতে বলতেই একেবারে সরু সুত্তিটা দিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি, লক্ষ্যণীয়ভাবে হালকা হাতে আঘাত পড়তে থাকে পাত্রের গায়ে।
২০ ইঞ্চি ব্যাসের একটা বড়োসড়ো পাত্রকে আকার দিতে মিনিট পনেরো লেগে যায় তাঁর। গড়ার সময় একটা দিক কোনওভাবে ভেঙে গেলে বা ফাটল ধরলে তড়িঘড়ি মাটি লেপে হালকা ঠোকা দিয়ে দিয়ে মেরামত করে নেন আবার।









