তাতে চিড়ে ভেজেনি। সাতারার উগ্র হিন্দুত্ববাদী নানা দলের সদস্যরা পরেরদিন পুসেসাবলিতে মিছিল করে মুসলিমদের উপর খোলাখুলি আক্রমণের ডাক দেয়। আইন নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার হুমকিও দিয়ে যায় তারা।
সিরাজ এবং গ্রামের বরিষ্ঠ মুসলমান বাসিন্দাদের যাঁরা দ্রুত স্থানীয় থানায় গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ করেছিলেন, তাঁরা পুলিশের কাছে এটাও অনুরোধ করেন যে পুসেসাবলির অন্যান্য মুসলিম বাসিন্দা যাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে কোনওভাবেই জড়িত নন, তাঁদের যেন নিরাপত্তা দেয় পুলিশ। “আমরা পুলিশকে বলেছিলাম যে দাঙ্গা বাঁধার জোর সম্ভাবনা আছে,” মনে করছেন সিরাজ। “একটু নিরাপত্তার জন্য ভিক্ষা করেছিলাম আমরা।”
কিন্তু পুসেসাবলি যে থানার অধীনে পড়ে সেই আউন্ধ থানার সহকারী ইনস্পেক্টর গঙ্গাপ্রসাদ কেন্দ্রে উলটে তাঁদের নিয়েই তামাশা করতে শুরু করেন, বলছেন সিরাজ। “উনি আমাদের জিজ্ঞেস করতে লাগলেন, আমরা নবী মহম্মদকে অনুসরণ করি কেন, উনি তো সাধারণ একটা মানুষ ছিলেন,” মনে করছেন সিরাজ। “আমি ভাবতেই পারিনি উর্দিধারী কেউ এইধরনের কথা বলতে পারে।”
পরের দুই সপ্তাহ ধরে হিন্দু একতা আর শিবপ্রতিষ্ঠান হিন্দুস্তান নামে দুই উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের লোকজন হঠাৎ হঠাৎ পুসেসাবলির পথেঘাটে মুসলিম ছেলেদের দাঁড় করিয়ে তাদের দিয়ে জোর করে ‘জয় শ্রী রাম’ বলাতে থাকে, না বললে ঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতে থাকে। গোটা গ্রাম থমথম করছিল, ঝড়ের আগের স্তব্ধতা যেন।
৮ সেপ্টেম্বর একই রকমের আরও দুটো স্ক্রিনশট ভাইরাল হয় মুজাম্মিল বাগওয়ান এবং আলতামাশ বাগওয়ানের নামে। দুজনেরই বয়স ২৩, দুজনেই পুসেসাবলির বাসিন্দা, এবং ঠিক আদিলের মতোই একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের কমেন্টে দুজনকে হিন্দু দেবদেবীদের অপমান করতে দেখা যায়। আদিলের মতোই এই দুই তরুণ দাবি করেন যে স্ক্রিনশটগুলি ফোটোশপে বানানো। যে পোস্টের তলায় এই কমেন্ট দেখা যায় সেই পোস্টটি হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মুসলিম পুরুষের হিংসাত্মক কথাবার্তার একটি সংকলন।
অভিযোগ, এই কনটেনটগুলি বানিয়েছিল উগ্র হিন্দুত্ববাদী দলের লোকজন।
পাঁচ মাস হয়ে গেছে, সংশ্লিষ্ট তিনটি স্ক্রিনশটের সত্যতা এখনও যাচাই করে চলেছে পুলিশ।
কিন্তু যে মতলবে এসব ঘটানো সেই ক্ষতি হয়েই গেছে – সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় টানটান গ্রামে বিস্ফোরণ হয়ে আসে দ্বিতীয় ঘটনাটি, শুরু হয়ে যায় হানাহানি। ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় মুসলিমরা আবারও পুলিশের কাছে আগাম হস্তক্ষেপের মিনতি করেছিলেন, তাতে লাভ হয়নি।
১০ সেপ্টেম্বর সূর্যাস্তের কিছু পরে গ্রামে চড়াও হয় শতাধিক বিক্ষুব্ধ উগ্র দক্ষিণপন্থী হিন্দুর দল, মুসলিম দোকান, বাড়ি, গাড়িতে ভাংচুর এবং আগুন লাগানো চলতে থাকে। গ্রামের মুসলিমদের হিসাব অনুযায়ী ২৯টি পরিবারকে নিশানা করা হয়েছিল, এবং সব মিলিয়ে ৩০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে তিল তিল করে গড়ে তোলা সারা জীবনের সঞ্চয়।