রূপান্তরকামী গোষ্ঠীর সঙ্গে কর্মরত নাম্মা প্রাইড ও সেভেন রেইনবোজ নামক দুটি সংস্থার সহযোগিতায় আয়োজিত হয়েছিল এই প্রাইড মার্চটি। “এবছর আমাদের দ্বিতীয় পদযাত্রা ছিল, একদিনেই পুলিশের থেকে ইজাজত পেয়ে গেছি, গতবছর অনুমতি পেতে পেতে দু’সপ্তাহ ঘুরে গিয়েছিল,” প্রণতি আম্মা জানালেন, ক্যুইয়ার সমাজের সবাই তাঁকে এই নামেই ডাকে। সেভেন রেইনবোজের প্রতিষ্ঠাতা প্রণতি আম্মা ৩৭ বছর ধরে লিঙ্গ ও যৌনতা ঘিরে কাজ করে চলেছেন সারা ভারত জুড়ে।
“পুলিশের সঙ্গে আরও ভালোভাবে আদানপ্রদান করতে শিখছি আমরা। মাইসুরুতে আজও এমন বহু লোক আছে আমরা যাদের চক্ষুশূল, আমরা গায়েব হয়ে গেলে ওরা খুশি হয়, তবে আমরা এটা [প্রাইড] বছর বছর আরও বড়ো আর বৈচিত্র্যময় করে তুলতে চাই,” তিনি বললেন।
এক কিলোমিটার লম্বা মিছিলটি শহরের ব্যস্ততম বাজারের একটির মধ্যে দিয়ে হেঁটে গিয়েছিল। গাড়িঘোড়া সরানোয় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিল স্থানীয় পুলিশ, যাতে উদযাপন বাধাপ্রাপ্ত না হয়। “এই সম্প্রদায়কে আমরা সম্মান করি। ওঁদের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটি যাতে কোনও ঝুটঝামেলা না হয়। আমরা এঁদের [রূপান্তরকামী] পাশে আছি,” সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর বিজয়েন্দ্র সিং বললেন।
“ভারতে রূপান্তরকামী মহিলাদের অবস্থানটা খুবই জটিল একটা পরিসরে রয়েছে। জাদু ক্ষমতার মতো অতিকথার জন্য ওঁদের খানিকটা সাংস্কৃতিক সুরক্ষা দেওয়া হয় বটে, তবে হেনস্থা ও বৈষম্যের শিকারও হন তাঁরা,” পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী তথা ক্যুইয়ার পুরুষ পরিচয়ধারী দীপক ধনঞ্জয় জানাচ্ছেন, “স্থানীয় [ক্যুইয়ার] সমাজ মানুষকে শিক্ষিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সামাজিক মানসিকতা রাতারাতি ভাঙা না-মুমকিন, তবে এই জাতীয় গৌরবযাত্রা যখন দেখি নির্ঝঞ্ঝাটে নির্বিবাদে এগিয়ে চলেছে, বিশেষ করে ছোটো ছোটো শহরে, তখন সত্যিই মনে আশা জাগে।”
এই প্রাইড মার্চের শরিক প্রিয়াংক আশা শুকানন্দ, (৩১) বলছেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন বৈষম্য আর হিংসার শিকার হয়েছিলাম, তখন মনস্থির করি যে আমার অধিকার কায়েম ও সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমি লড়ে যাব। যতকটা প্রাইড যাত্রায় পথে নেমেছি, তা আমি ও আমার মতো যাঁরা অনুরূপ পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করছেন তাঁদের কথা মনে করিয়েছে, তাই ওঁদের জন্যই মিছিলে হাঁটি।” বেঙ্গালুরু-নিবাসী প্রিয়াংক একজন বিশেষ শিক্ষাকর্মী (স্পেশ্যাল এডুকেটর) ও রন্ধনশিল্পী। তিনি আরও জানালেন, “মাইসুরুর এলজিবিটি সমাজ আদতে যে কতখানি শক্তিশালী সেটা স্বচক্ষে দেখলাম, এটা খুব ভরসার কথা।”