ধান চাষ বিস্তারের বিষয়ে সরকারি নীতি প্রবর্তিত হওয়ার আগেই এই বিষয়ে কুদুম্বশ্রী গোষ্ঠী ধান চাষের প্রচারে অনেক কাজ করেছে। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া এই গোষ্ঠী বর্তমানে ৪৩ লক্ষ মহিলার মধ্যে বিস্তার লাভ করেছে (গোষ্ঠীর ওয়েবসাইট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী)। তাঁদের অধিকাংশই দারিদ্র সীমার নিচে বসবাস করেন এবং অনেকেই ধান বোনা এবং ফসল কাটায় দক্ষ কৃষি শ্রমিক। কুদুম্বশ্রী তাঁদের দলবদ্ধ হতে সাহায্য করে। ফলে, সংগঠিতভাবে তাঁরা কৃষক এবং জমির মালিকের কাছে কাজের প্রয়োজনে দরবার করেন। মহিলারা জমিতে নিজেরাই কাজ করেন এবং কদুম্বশ্রী থেকে এই চাষের কাজের জন্য হেক্টর প্রতি ৯,০০০ টাকা অনুদান লাভ করেন। সমগ্র কেরালায় ৮,৩০০ হেক্টর জমিতে এই গোষ্ঠী ধানের চাষ করে, প্রধানত রাজ্যের মধ্যবর্তী অঞ্চলের মালাপ্পুরম, ত্রিসুর, আলাপ্পুঝা এবং কোট্টায়াম জেলায়। ধানের প্রক্রিয়াকরণ তাঁদের হাতেই সম্পন্ন হয় এবং মহিলারা নিজ নিজ অঞ্চলের নামের ব্র্যান্ডে এই ধান বিক্রি করেন, এবং কিছু কিছু খুচরো দোকানের সঙ্গেও তাঁরা ব্যবসা করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। “এর ফলে তাঁদের উপার্জন বাড়ে,” বলেন কুদুম্বশ্রীর কৃষিভিত্তিক জীবিকা বিষয়ের উপদেষ্টা রাহুল কৃষ্ণাণ।
এদিকে, ১৬ই ফেব্রুয়ারি কোট্টায়ামের ভৈকম ব্লকের কাল্লারা গ্রামে ধান কাটার উৎসবে, গ্রামের ৪০ জন কৃষক তথা তাঁদের পরিবারবর্গ, কৃষি আধিকারিক, পঞ্চায়েত সদস্য এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সমবেত হয়ে ১০০ একর পতিত জমি সমষ্টিগত প্রচেষ্টায় সোনালি ধানি জমিতে রূপান্তরের প্রয়াসটি উদযাপন করেছেন। চারদিক আনন্দে উদ্ভাসিত, ড্রামের শব্দে মুখরিত। কৃষকদের উত্তরীয় এবং উপহার প্রদান করে সম্বর্ধনা জানানো হয়।
এই চল্লিশ কৃষকের মধ্যে আছেন শ্রীধরন আম্বাট্টুমুকিল, মনের আনন্দে তিনি কাটা ফসলের প্রথম গোছাটা তুলে ধরেন; বিগত কয়েক মাসে তাঁর কঠোর পরিশ্রমের ফলে এই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল শস্যের উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। কিন্তু কাল্লারার অন্যান্য কৃষকদের মতো, তিনিও এই ফসল সরকার দ্বারা সংগ্রহের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। “তারা [যে সকল বেসরকারি ঠিকাদাররা রাজ্য সরকারের পক্ষে শস্য সংগ্রহ করেন] যদি ১০০ কেজি শস্য সংগ্রহ করে, তাহলে তার মধ্যে ১৭ কেজি শস্যের জন্য অর্থ প্রদান করবে না। গত বছর যদিও তারা মাত্র চার কেজি শস্যের দাম কেটেছিল।” ঠিকাদাররা সব ফসলের ব্যাপারেই এটা করে থাকেন, এমনটা নয় যে শুধু পতিত জমিতে চাষ করা ধানের ক্ষেত্রেই এমনটা হচ্ছে; এই শস্য সংগ্রহের বিষয়টিকে ঘিরেই কৃষকদের মধ্যে সংঘাত, বিরোধ তৈরি হয়।
কিছু কিছু স্থানে, চাষি এবং কারখানার মালিকদের প্রতিনিধিদের মধ্যে উৎপাদিত ফসলের গুণগত মান নিয়ে মতবিরোধের ফলে ফসল কাটা থেকে শুরু করে ফসল ক্রয়ের পর্বটি বিলম্বিত হয়েছে। ঈশ্বরণের মতে, “কৃষকদের জন্য এটা খুবই লোকসানজনক ব্যাপার।”
এত অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, কৃষকেরা কেমন করে চালিয়ে যাচ্ছেন? “কৃষিকাজ আমাদের জন্য প্রাণাধিক প্রিয়, এ শুধু কাজ নয়, আমাদের কাছে এই কাজ হল এক আবেগ। আমরা হাজার ক্ষতির মধ্যে পড়লেও এই কাজ করেই যাব,” বলেন শ্রীধরন। “এই দেশে কোনওকালেই কৃষকের সমৃদ্ধি হবে না, তবে, আমাদের কেউ ধ্বংসও করতে পারবে না।”
বাংলা অনুবাদ: স্মিতা খাটোর