২০২০ সালের জানুয়ারি মাস, ঈষৎ হিমেল এক বিকেল। জ্বালানি কাঠ কুড়োতে ঘারাপুরিতে নিজেদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে জঙ্গলে গিয়েছিলেন জয়শ্রী মহাত্রে, আর ঠিক তখনই কিছু একটা কামড়ায় তাঁকে। দুই মেয়ের এই মা প্রথমটায় অত গা করেননি, ভেবেছিলেন কাঠকুটো কিছু ফুটেছে বুঝি। খানিক পরেই কুড়িয়ে বাড়িয়ে জোগাড় করা কাঠ নিয়ে ঘরের দিকে রওনা দেন তিনি।
অনতিকাল পর বাড়ির চৌকাঠে দাঁড়িয়ে এক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলতে হঠাৎই লুটিয়ে পড়েন মাটিতে। আশেপাশে যাঁরা ছিলেন, প্রথমটায় তাঁরা ভেবেছিলেন এ বুঝি কেবলই দুর্বলতার লক্ষণ, আসলে জয়শ্রী উপোস করছিলেন কিনা।
বড়ো মেয়ে ভাবিকা (২০) মনে করে বললেন: “সবাই আমাকে জানাল যে আই নাকি অজ্ঞান হয়ে গেছে।” বোন গৌরীর (১৪) সঙ্গে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন বলে ঘটনাটি স্বচক্ষে দেখতে পারেননি তিনি। অকুস্থলে উপস্থিত পড়শি এবং আত্মীয়রা মেয়েদের জানালেন যে খানিক পরে জয়শ্রীর জ্ঞান ফিরলেও তাঁর নাকি হাত-পা কাঁপছিল। ভাবিকার কথায়: “কী যে হয়েছে, কেউ তো কিছুই বলতে পারল না।”
কেউ একটা তড়িঘড়ি গিয়ে খবর দেয় জয়শ্রীর স্বামী মধুকর মহাত্রেকে (৫৩), তিনি তখন ঘারাপুরি দ্বীপে তাঁর গুমটিতে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে এই খাবারদাবারের দোকানটি চালাতেন তিনি। মুম্বইয়ের কাছেই আরব সাগরের তীরে ঘারাপুরি দ্বীপটি এলিফ্যান্টা গুহার জন্য বিখ্যাত। ইউনেস্কো বিশ্ব হেরিটেজ সাইট রূপে স্বীকৃত হওয়ায় লক্ষ লক্ষ পর্যটক এসে ভিড় জমান এই গুহায়। খ্রিস্টোত্তর ৬ষ্ঠ ও ৮ষ্টম শতাব্দীতে পাথর কেটে নির্মিত এখানকার স্থাপত্যশিল্প। পর্যটন শিল্পের ভরসায় বেঁচে আছেন এই দ্বীপের বাসিন্দারা – টুপি, রোদচশমা, স্মারকবস্তু, খাবারদাবার ইত্যাদি বেচে পেট চালান তাঁরা, কয়েকজন পর্যটকদের জন্য গাইডের ভূমিকাও পালন করেন।
পর্যটন মানচিত্রে জ্বলজ্বল করছে ঘারাপুরি গ্রাম, অথচ প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থার চিহ্নটুকুও নেই কোথাও, নিদেনপক্ষে একখানা সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রও জোটেনি। বছর দুই আগে একটা বানানো হয়েছিল বটে, তবে সেটা পরিত্যক্ত। এ গ্রামের মোট জনসংখ্যা ১,১০০। রাজবন্দর, শ্বেতবন্দর ও মোরাবন্দর নামে তিনটি জনপদ জুড়ে বসত তাঁদের। চিকিৎসা ব্যবস্থার এমনই দুর্দশা যে নৌকায় চেপে গাঁ ছেড়ে বাইরে না গিয়ে উপায় নেই। অনেকটা টাকা তো খসেই, উপরন্তু দরকারের সময় ডাক্তারবদ্যি পেতে দেরি হলে তার জেরে রোগীর প্রাণসংশয় দেখা দেয়।














