দেখতে দেখতে ধুবরির অন্যতম দুধ-উৎপাদনকারী হয়ে উঠেছেন তামেজুদ্দিন। কৃষিকাজে নিযুক্ত অন্যান্য মানুষ যাতে পশুপালনে উৎসাহী হন, তার জন্য বিভিন্ন কর্মশালায় তামেজুদ্দিনকে বক্তৃতা দিতে ডেকে পাঠান জেলা আধিকারিকেরা। এছাড়াও ইনি চালাকুরা মিলন দুগ্ধ উৎপাদক সমবায় সমিতির অধ্যক্ষ, ৫১ জন গোয়ালা মিলে তৈরি হয়েছে এই সমবায়টি। এরকম আরও খান চারেক সমবায় রয়েছে এই চরে।
ধুবরির চরে অবস্থিত পশুখামারগুলিকে সাফল্যের প্রতিচ্ছবি বলে প্রতিপন্ন করতে চায় সরকার, প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি-সম্পত্তি খুইয়েও কিছু মানুষ যে সফল হতে পেরেছেন, এ তারই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। অথচ এর পিছনে লুকিয়ে আছে এক কঠোর বাস্তব — পশুখাদ্যের অভাব, যার ফলে টান পড়েছে রুজিরুটিত।
ধুবরির জেলা পশুচিকিৎসা আধিকারিক দীনেশ গগৈই জানালেন: গণবণ্টন প্রথার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে আসাম যেটুকু গম পায়, ২০১৬ সাল অবধি সেটা স্থানীয় মিলেই কাটছাঁট হয়ে পশুখাদ্য রূপে ভর্তুকি সমেত কুইন্টাল-পিছু ৬০০ টাকায় পৌঁছে যেত দুধ-চাষিদের কাছে। মাস গেলে যেমন ভর্তুকির টাকায় ২৫ কুইন্টাল গম হাতে পায় তামেজুদ্দিনের পরিবার।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে, আসাম সরকারের অনুরোধে এ রাজ্যের মাসিক বরাদ্দ শস্যের পরিমাণে আমূল পরিবর্তন এনেছে উপভোক্তা বিষয়াদি, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রক — অন্তোদয় অন্ন যোজনার খাতে (‘অগ্রাধিকার’ হিসেবে) কেবল চাল দেওয়া হবে, এবং জাতীয় খাদ্য সুরক্ষা আইনের (এনএফএসে) আওতায় দেওয়া হবে গম (‘টাইড-ওভার’ বা ‘উদ্বৃত্ত’ বিভাগে)। ফলত মাসিক ৬১০ টাকা দরে ৮,২৭২ টন গম পেতে শুরু করে আসাম। যেটা কিনা কমতে কমতে জুলাই ২০১৬র পর থেকে এসে দাঁড়ায় ৫,৭৮১ টনে।
অথচ ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে কিন্তু এনএফএসের খাতে গমের একটি দানাও পায়নি আসাম। ২০১৬ সালের ৩০শে নভেম্বর রাজ্য সরকারকে লিখিত রূপে জানান দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রক, “কেন্দ্রীয় শস্যাগারে গম বাড়ন্ত, তাই ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে মার্চ ২০১৭ অবধি রাজ্যগুলির জন্য উদ্বৃত্ত বিভাগে শুধুমাত্র চাল বরাদ্দ করা হবে।”