“আমি আমার জীবনে কোনওদিন এত জোরে দৌড়ইনি, সেদিন যা জোরে দৌড়েছিলাম,” বিচলিত হাসি হেসে স্ত্রী সুলোচনা ও তাঁদের যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ বছর বয়সী কন্যা দিশা এবং বৈষ্ণবীর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন। তাঁরাও বিচলিত হাসি হাসেন, তাঁরা জানেন সেইদিন আত্রাম মৃত্যুর কান ঘেষে বেঁচেছেন। বাড়ি পৌঁছিয়ে, তিনি বলেন, তিনি তাঁদের এক কামরার কুঁড়েঘরে দরজা বন্ধ করে থাকেন, কুঁড়েটির সামনে তাঁর গরুদের রাখার জন্য একটি ছাউনি দেওয়া উঠোন রয়েছে, এবং তিনি সারা রাত আর বেরোননি। বলেন তিনি রীতিমতো কাঁপছিলেন।
“আজি লাগিত মোত্থা হোতা জি (ওটা একটা বিরাট বাঘ ছিল),” মারাঠির আঞ্চলিক লব্জ ভার্হাড়িতে তিনি বলেন। তাঁর গলায় কৌতুকের ছোঁয়া, কিন্তু বাহাদুরি নেই। তিনি কী ভয় পেয়েছিলেন? “মাঙ কা জি! (আবার কি!),” তাঁর মেয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে মুখ টিপে হাসেন।
তীব্রতর হতে থাকা মানুষ ও বাঘের দ্বন্দ্ব
আত্রামের সঙ্গে বাঘের সাক্ষাৎ, পূর্ব মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের জঙ্গলে তীব্রতর হতে থাকা মানুষ-বাঘ দ্বন্দ্বের অংশমাত্র।
এটি সাম্প্রতিক ঘটনা, বলেন সিদ্ধার্থ দুধে, বোরাতির এক অভিজ্ঞ কৃষক, তিনি দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে বন রক্ষীরও কাজ করেন। হতে পারে, বাঘটি বোরাতি গ্রাম থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছোট্টো সংরক্ষণ কেন্দ্র টিপেশ্বর অভয়ারণ্য থেকে চলে এসেছে। “ভয় আছে, উদ্বেগ আছে, দুশ্চিন্তা আছে,” তিনি বলেন। (পড়ুন: টি১ বাঘিনীর আক্রমণের খতিয়ান ও আতঙ্ক)
ইয়াভতমল জেলার ঝোপ ও পর্ণমোচী জঙ্গলের মাঝে মাঝে রয়েছে বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ গ্রাম। নতুন ঘুরে বেড়ানো বাঘগুলির শিকার তৃণভোজী প্রাণী ও গ্রামের গবাদি পশু, যাদের মারা সহজ, বনরক্ষী মেশরাম আত্রামের বাড়িতে বসে আমাদের বলেন। “এখন আমাদের গ্রামের আশেপাশে টি১-কে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না,” তিনি বলেন। “কিন্তু আমরা পাহারায় থাকি আর গ্রামবাসীদের সতর্ক করি যখন আমরা তার গতিবিধি জানতে পারি।”
এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে দুটি জিনিস, মহারাষ্ট্রের মুখ্য বন সংরক্ষক (বন্যপ্রাণী), অশোক কুমার মিশ্র বলেন: “একদিকে, সাম্প্রতিককালের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ও সংগঠিত চোরা শিকারের ওপর কড়া নজর রাখার ফলে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে, পরিবেশের ওপর মনুষ্যসৃষ্ট চাপ, যার মধ্যে রয়েছে জঙ্গলের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে চলা আর জনসংখ্যা বৃদ্ধি।”
তাছাড়া, রাস্তা ও প্রধান সড়ক সহ বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য বিদর্ভের জঙ্গল ক্রমশই আরও টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। মিশ্র বলেন, বাঘেদের থাকার জায়গা কমে যাচ্ছে ও বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, পশুদের চিরকালীন যাতায়াতের পথগুলো ভেঙে ভেঙে গেছে, ফলে তাদের ঘোরাফেরার কোনও জায়গা নেই। দ্বন্দ্ব ছাড়া আর কিই বা আশা করেন? মিশ্র বলেন। “এটা কমানোর প্রচেষ্টা আমাদের তরফে না থাকলে তা তীব্রতর হত।”