স্বামীর অপব্যবহার, বড়ো ননদের গঞ্জনা এবং প্রায়শই ‘অভিশপ্ত’ আখ্যা পাওয়ার পরেও বিদ্যাপতি ভগতের বিশ্বাস একটি সন্তান তাঁর এই সব ক্ষতের উপশম হয়ে উঠবে। “আমার মতো অশিক্ষিত এক মহিলা আর কিই বা করতে পারে? যদি একটা সন্তান হয়, তাহলেই এই অবস্থা ঠিক হবে,” তিনি মৃদুস্বরে বলেন।
দেশের মধ্যে বিহারেই কালাজ্বরের প্রাদুর্ভাব সর্বাধিক। জাতীয় বাহক-বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (ন্যাশনাল ভেক্টর বোর্ন ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রাম) সাম্প্রতিকতম পরিসংখ্যান অনুসারে ২০১৮ সালে দেশে কালাজ্বরের ৩,৮৩৭টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে যার প্রায় প্রতি পাঁচটির মধ্যে চারটিই বিহারের ঘটনা। সারাদেশের মধ্যো সবচেয়ে ভয়াবহ সামাজিক-অর্থনৈতিক সূচকগুলো বিহার থেকেই উঠে আসে, এবং রাজ্যের দরিদ্র জনসাধারণের এই রোগ সরকারি মনোযোগ আকর্ষণ করে না সেই অর্থে। মহিলারা পিকেডিএল-জনিত দুর্দশার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী।
বিদ্যাপতির স্বামীর গ্রাম রেভেলগঞ্জ ব্লকের মোবারকপুরেই মানুষ ১৯ বছর বয়সী টেম্পো চালক আসমত আলি অবশ্য নিরুদ্বিগ্ন। নিরাপত্তাহীনতার লেশমাত্র নেই তাঁর মধ্যে। তাঁর মুখের ক্ষতগুলি বিদ্যাপতির তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি এবং গভীরতর। জানালেন এই ক্ষতগুলি নিয়েই তিনি বিগত নয় বছর ধরে বেঁচে আছেন, চিকিৎসার ব্যাপারটা তাঁর কাছে অগ্রাধিকার পায়নি। নির্বিকার চিত্তে তিনি বলেন, “অনেক কাজ করার আছে।” অবশ্য তিনি তাঁর পাড়ার এমনই একটি মেয়ের কথা শোনালেন যে তাঁরই মতো কষ্ট ভোগ করছিল এবং চিকিৎসাও করায়। “এমন মেয়েকে কেই বা বিয়ে করতে চায়?” তাঁর প্রশ্ন।
বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত সামাজিক পরিচয় যেটাই হোক না কেন, লিঙ্গ বৈষম্য এবং মান্ধাতার যুগের ধ্যানধারণা মহিলাদের চিকিত্সার প্রয়াস ও তাকে বজায় রাখার ক্ষেত্রে একটা বিরাট বড়ো অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।