ইন্দুর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি নেওয়ার পর, নাগেন্দ্র যেহেতু তাকে মুদ্রিত রসিদ দিতে সক্ষম হলেন না, অতএব আপাতত, একটি হাতে লেখা রসিদ দিলেন। তিনি বললেন, “প্রিন্টারটি ঠিকমতো কাজ করছে না।” তিনি জনিয়ে দিলেন যে সংশোধিত তথ্য আধারের ওয়েবসাইটে উঠতে অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তাঁর কথায়, “আমি এখনও আধারের ওয়েবসাইটে স্ক্যান করা নথিপত্র তুলিনি। এই ফাইলগুলি আমার ল্যাপটপে সংরক্ষিত [অফলাইন] আছে।” নাগেন্দ্র সারাদিনে যতগুলি আবেদন পেয়েছেন, অন্য আরেক অপারেটর পুনরায় সেই সবগুলি যথার্থ কিনা তা যাচাই করে দেখবেন, এই কাজের জন্য নাগেন্দ্রকে তাঁর ল্যাপটপটি অপর অপারেটরের কাছে বয়ে নিয়ে যেতে হবে।
রোশিয়াহ বলেন, “শিক্ষা বৃত্তির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি বলেন যে ব্যাঙ্কের [ভারতীয় স্টেট ব্যাঙ্কের সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যা] একটি সমস্যা আছে এবং এই সমস্যার জন্য পরবর্তী মাসের তিন তারিখ পর্যন্ত কোনও গ্রাহকই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন না।” কিন্তু তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস যে এই পাঁচটি শিশু তাদের প্রাপ্য বৃত্তি অবশ্যই পাবে কারণ আধার কার্ডগুলিকে সংশোধিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার পরে, মোটামুটি এক ঘন্টার মধ্যেই তাদের নাম বৃত্তির জন্য তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে। এই বছর অবশ্যই পড়ুয়ারা তাদের প্রাপ্য শিক্ষা বৃত্তি পাবে।”
হাজারে হাজারে যেখানে আধার কার্ড সংক্রান্ত ত্রুটি হয়ে চলেছে, সেখানে ঠিক কেমন করে এত দ্রুততার সঙ্গে এই ব্যাপারটির ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভবপর হল? অন্ধ্র প্রদেশ এবং তেলঙ্গানা ভিত্তিক একটি সংস্থা, হিউম্যান রাইটস ফোরামের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্য তথা একজন প্রাক্তন কলেজ প্রিন্সিপাল এ. চন্দ্রশেখর বলেন, “সম্ভবত এই বিষয়টির সংবেদনশীল প্রকৃতির কারণে এবং দেশের সুপ্রিম কোর্টে রুজু করা আধার সংক্রান্ত মামলাগুলির কারণে আধিকারিকরা এই ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁরা [কর্মকর্তারা] এই ব্যবস্থায় মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে চান। সেইজন্য এক লক্ষ ঘটনার মধ্যে থেকে হয়তো তাঁরা ১০,০০০টির ক্ষেত্রে সংশোধন করবেন, ফলস্বরূপ মানুষের মনে আধার ব্যবস্থায় কিছুটা হলেও আস্থা জন্মাবে। এই একটা স্তরে তাঁরা হয়তো সক্রিয় হওয়ার প্রয়াস করছেন, কিন্তু অন্যদিকে, বাস্তবের চিত্রটাও তাঁদের অজানা নয়।”
বাংলা অনুবাদ: স্মিতা খাটোর