"লোকে আমার শ্বশুরকে জিজ্ঞেস করে, 'সেকি জনাব, আপনার বাড়ির এক অওরত বাইরে গিয়ে টাকা রোজগার করছে?' আসলে আমি তো এই শহরের মানুষ নই, তাই নিয়মকানুনগুলো যেন একটু বেশিই কড়া আমার জন্য," কথাগুলো ফাতিমা বিবির।
কথা বলতে বলতেই বাড়িতে ঢুকে এক ঝটকায় তাঁর নিক্বাবটি খুলে সদর দরজার পাশে একটি খুঁটে টাঙিয়ে রাখলেন তিনি। "ছোট্টবেলায় ভাবতাম, আমার দৌড় বোধহয় সেই রান্নাঘর অবধিই – রাঁধা-বাড়া, ঘরকন্না সামলানো, এসব করেই জিন্দেগিটা কেটে যাবে।" স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে হেসে ফেললেন ফাতিমা, "কিন্তু যখন ঠিক করলাম যে নাহ্, কিছু একটা করতেই হবে, তখন বাইরে বেরিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর আজাদি আমি পেয়েছিলাম বাড়ির লোকের থেকে। হ্যাঁ, আমি মুসলিম মহিলা, বয়সটাও অল্প, কিন্তু করতে পারি না এমন কোনও কাজ এ দুনিয়ায় নেই," স্পষ্ট হয়ে উঠল মেয়েটির লড়াকু স্বভাব। সাঁঝের আলোয় ঝিলমিলিয়ে উঠছিল তাঁর দুপাট্টায় বসানো রুপোলি চুমকির সারি।
উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ (পূর্বতন এলাহাবাদ) জেলার মাহেওয়া শহরে থাকেন ফাতিমা। এ মুলুকের মৃদু মন্থর জীবন, আর পাশেই বইতে থাকা ধীরতোয়া যমুনার স্রোত, দুটি যেন পরস্পরের প্রতিচ্ছবি। তবে ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে থাকাটা তাঁর চরিত্রে নেই, দক্ষ কারিগর হওয়ার পাশাপাশি একজন সফল হস্তশিল্প ব্যবসায়ী তিনি, মুঞ্জ দিয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের টুকিটাকি নানান সামগ্রী বানিয়ে বিক্রি করেন তিনি। সরপৎ নামে একধরনের ছুঁচালো খাগড়া ঘাস পাওয়া যায় এ অঞ্চলে, তারই পাতার বাইরের অংশটার নাম 'মুঞ্জ', এ দিয়ে হরেক রকমের জিনিস বানানো হয় – সেগুলিও মুঞ্জ নামেই পরিচিত।
বড়ো হয়ে কী করবেন না করবেন সেটা হয়ত অল্প বয়সে ঠিক বুঝে উঠতে পারতেন না ফাতিমা। তবে মোহাম্মদ শাকিলের সঙ্গে নিকাহ করে মাহেওয়ায় শ্বশুরবাড়িতে আসার পর নতুন এক দরজা খুলে যায় তাঁর সামনে। হবে না-ই বা কেন? শাশুড়ি আয়েশা বেগম যে একজন অভিজ্ঞ মুঞ্জ-কারিগর।














