নিগানা থেকে মোটে ছ’কিলোমিটার দূর কাহনৌর গাঁ, সেখানে কেসু প্রজাপতির কাছে এ নির্বাচনের সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মূল্যবৃদ্ধি। ৪৪ বছরের কেসু দালানবাড়ির মেঝেয় টাইলস্ বসান। নুন আর চিনির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দেখে মুদ্রাস্ফীতি নির্ধারণ করেন এই মানুষটি। পেশায় দিনমজুর, রোহতকের ভবন নির্মাণ কারিগর মজদুর ইউনিয়নের সদস্য। কেসু জানাচ্ছেন যে একদশক আগেও যেখানে ৩০-৩৫ টাকায় এক লিটার দুধ মিলত, আজ সেটা ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। তখন নুন ছিল ১৬ টাকা কিলো, আজ সেটা ২৭ টাকা।
“রেশন আমাদের হক ছিল। আজ সেটা সরকারি খয়রাত বলে মনে হয়, কেমন যেন মাথা পেতে নিতে হচ্ছে।” বর্তমান কালে যাঁদের হলুদ কার্ড আছে, তাঁরা ৫ কেজি গম, এক কেজি চিনি আর ভোজ্য তেল পাচ্ছেন, আর পিংক কার্ড থাকলে মাসে ৩৫ কেজি গম।
“আগে আগে সরকার রেশনে কেরোসিন তেল দিত। সেসব এখন বন্ধ করে দিয়েছে, আর এলপিজি [রান্নার গ্যাস] সিলিন্ডার ভরানো বড্ড খরচসাপেক্ষ। এককালে আমরা চানা ও লবণও পেয়েছি,” তবে এগুলোও আজ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানালেন তিনি।
রেশনের পণ্য তালিকায় নুন আর নেই, তাই “আর যাই হোক এটুকু অন্তত বলতে পারি যে ‘হমনে সরকার কা নমক নহিঁ খায়া [সরকারের নুন খাইনি, তাই শাসকদলের কথামতো চলার কোনও প্রশ্নই আর ওঠে না]।”
হরিয়ানায় বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন সরকার’ চললেও রামরতির তাতে কিচ্ছুটি যায় আসে না, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ মসনদে থাকা সরকার কাহনৌরের সরকারি স্কুলের এই রাঁধুনিটির জন্য তেমন কিসুই করেনি। গাঁয়ের স্কুলে মিড-ডে রান্না করেন রামরতি (৪৮), তাঁর কথায় “এরম কাঠফাটা গরমে যেখানে চুলার আগুনের সামনে একটা মিনিটও টেকা দায়, সেখানে আমি মাস গেলে প্রায় ৬,০০০ রুটি বানাচ্ছি।”
এ কাজে তাঁর মাসিক বেতন মোটে ৭,০০০ টাকা। রামরতির মতে এটা তাঁর নায্য পারিশ্রমিকের আধা। লাগামছাড়া মুদ্রাস্ফীতির দরুন একাহাতে ছয় সদস্যের পরিবার টানা বড্ড কঠিন হয়ে উঠেছে তাঁর পক্ষে। পাশাপাশি নিজের ঘরকন্নার যাবতীয় কাজকম্ম তো আছেই, তার হিসেব আর রাখে কে? “দিনের আলো ফুরোলেও আমায় কাজ ফুরোয় না,” বললেন তিনি।