"সারাদিন চাষবাস করে আজকাল কি আর যথেষ্ট রোজগার করা যায়?" প্রশ্ন করেন সি. জেয়াবল। তামিলনাড়ুর এই চাষির ধানখেতের মধ্যে দিয়ে হাঁটছিলাম আমরা। "ওই দূরে লোকগুলোকে দেখতে পাচ্ছেন?" হাঁটতে হাঁটতে বটগাছের নিচে জটলা করে বসে থাকা একদল লোককে দেখিয়ে জেয়াবল বলে চলেন, “ওদের কেউই শুধু চাষবাস করে দিন গুজরান করতে পারে না। একজন ট্রাক্টর চালায়, আর একজন লরিতে করে নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের কাজ করে। আর তৃতীয়জন একটা বেকারি চালায়। ওদের মতো আমিও মাদুরাই শহরের একটা হোটেলে সাঁতার শেখানোর কাজ করি, সে এখান থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটারের পথ।”
মাদুরাই জেলার নাদুমুদালাইকুলাম গ্রামে নিতান্তই সাদামাটা জেয়াবলদের খামার। জেয়াবল তাঁর বাবা চিন্নাথেভারের (৭৫) কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া দেড় একর জমির মালিক। এর পাশাপাশি আরও দুই একর জমি ইজারা নিয়ে রেখেছেন তিনি। জেয়াবল বছরে তিনবার ধানচাষ করেন - এমনিতেই ধান এমন এক ফসল যার সবসময়ই চাহিদা রয়েছে, আবার কখনও কখনও ধানচাষে লাভের মুখও দেখা যায়। তাই একর প্রতি ২০,০০০ টাকা খরচ করে জমি চষেন তিনি, কিন্তু লাভ হয় যৎসামান্য। অথচ এর জন্য জেয়াবল ও তাঁর স্ত্রীকে রোজ অন্তত ১২ ঘণ্টা মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়। তাতে রোজগার কত হয়? প্রতি একরে, প্রতি ঘণ্টায় হিসেব করলে একেকজনের আয় দাঁড়ায় মাত্র ৯.২৫ টাকা! জেয়াবল প্রশ্ন করেন, “তাহলে বলুন, আমার ছেলেপুলেরা কেনই বা এই কাজ করতে চাইবে?”








