দিল্লি থেকে হরিয়ানা, রাজস্থান হয়ে গুজরাত অব্দি বিস্তৃত আরাবল্লি পর্বতমালা আজ দেশের জলবায়ুর পরিপ্রেক্ষিতে এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তার কারণ ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট এক বিচিত্র আদেশ জারি করে, যার আওতায় কেবল সেই সকল পাহাড়শ্রেণি আইনি সুরক্ষা পাবে যাদের উচ্চতা ১০০ মিটারের অধিক। বাস্তুবিজ্ঞানী ও নাগরিক সমাজ - উভয়ই এই আদেশে ত্রস্ত হয়ে উঠেছে, তবে রতন তাউদের মতো পরিবারের হাতে এই মাটির প্রথাগত অনুশীলন আজও অটুট। ডিসেম্বর ৩১, ২০২৫, গণআন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট আরাবল্লি সংক্রান্ত সেই পুর্বোক্ত রায়ের উপর স্থগিতাদেশ জারি করে। পাহাড়ের নতুন সংজ্ঞার ফলে আরাবল্লি পর্বতমালার যে অংশগুলি আইনি সুরক্ষার আওতায় পড়ছে না, সেখানে খননকার্যের ফলে আদৌ পরিবেশগত সংকট হতে পারে কিনা সেটা বিশ্লেষণ করার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করার সুপারিশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
মঙ্গরের মোট ৪,২৬২ একর এলাকার ৯০ শতাংশই জঙ্গলাকীর্ণ — ক্রান্তীয় শুষ্ক পর্ণমোচী এবং ক্রান্তীয় কাঁটাযুক্ত গাছের সমাহার। অন্তত ৪০টি প্রজাতির বৃক্ষ ও ৩০টি প্রজাতির লতাগুল্ম পাওয়া যায়, যাদের প্রত্যেকটি শনাক্ত করতে সক্ষম রতন সিং। যেমন ধরুন ধাউ (চাকোয়া বা টার্মিনালিয়া পেন্ডুলা), সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি এই গাছটি অতিরিক্ত চারণের ফলে ঝোপে রূপান্তরিত হয়েছে। এছাড়াও আছে গাঙ্গের (বুনো ফলসা বা গ্রেওয়িয়া টেন্যাক্স), আতান (গেঁড়ে ফলসা বা গ্রেওয়িয়া ফ্ল্যাভেসেন্স), রোঞ্ঝ (সফেদ বাবুল বা ভ্যাকেলিয়া লিওকোফ্লিয়া) এবং ঝার্বের (ভূঁইকুল বা জিজিফাস নুম্মুলারিয়া) — চরৈবেতি গবাদি পশুর কাছে এদের প্রতিটিই সুখাদ্য।
"এখানকার লোকে আগে অনেক জন্তু-জানোয়ার পুষতো — ঘরে ঘরে অন্তত ১০০টা ছাগল তো থাকতই," রতন তাউ বললেন। ছাগল ছাড়াও তাঁর নিজের দুটো বড়ো গরু, দুটো ছোটো গরু আর দুইখান ছানা-সমেত একটি মোষ আছে। "যেসব দেশি গাছগাছালি আর ঝোপঝাড় থেকে পশুখাদ্য জুটত, এখন তাদের জায়গা নিয়েছে বাইরে থেকে আসা প্রজাতি।"
তেমনই একটি বিদেশি গাছের প্রজাতি বিলিতি বাবলা বা প্রসোপিস জুলিফ্লোরা। এটি অত্যন্ত আগ্রাসী ভাবে একাধিক মহাদেশে ছেয়ে গিয়েছে, নানান প্রতিকূল প্রভাব রয়েছে এর। পঞ্জাব ভূমি সুরক্ষা আইনের আওতায় থাকা সংরক্ষিত বৃক্ষরাজির তালিকা থেকে হরিয়ানা সরকার ২০১৭ সালে এটিকে “বহিরাগত আক্রমণাত্মক প্রজাতি”-র তকমা দিয়ে ছেঁটে ফেলেছে বটে, অথচ দুই দশক আগে খোদ তেনারাই আরাবল্লি জুড়ে বিলিতি বাবলা লাগিয়েছিলেন।
আরাবল্লি পর্বতমালা ওপেন স্ক্রাব ফরেস্ট, অর্থাৎ কাঁটাবনের আওতায় পড়ছে। এই ধরনের অরণ্যে গাছগাছালির পরিমাণ সবচাইতে কম হয় (১০-৪০ শতাংশ), তাই বিভিন্ন রাজ্যে এ ভূমিবর্গ “পতিত জমি” হিসেবে নিবন্ধিত। নানান অরণ্য প্রকল্পের মাধ্যমে এই জাতীয় কাঁটাবনকে “উন্নত” বা আর্থিকভাবে উৎপাদনশীল করে তোলার প্রচেষ্টা দেখা যায়। আজকাল গবাদি পশুরা প্রসোপিস জুলিফ্লোরার শুঁটি খাচ্ছে ঠিকই, উপরন্তু এ তল্লাটে মূলত এই গাছটি থেকেই জ্বালানির কাঠ আসে, তা সত্ত্বেও রতন তাউয়ের মতো স্থানীয় পশুপালকরা বরাবরই জেনে এসেছেন যে বিলিতি বাবলা অত্যন্ত নিম্নমানের পশুখাদ্য। তাঁদের লব্জে এই গাছটির নাম বিলায়তি কিকর।