খাওয়া-দাওয়ার পালা সাঙ্গ হতেই এঁটো বাটিগুলির একটিতে থরের এই ধূধূ মরুভূমির এক মুঠো বালি তুলে নিলেন বিমলা। বাটিটা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে বালির ঘষায় তুলে ফেললেন লেগে থাকা তেল আর অবশিষ্ট খাবারের দানা। “বালি দিয়ে মাজলে বাসন খুব ভালো সাফ হয়, শুধু জল দিয়ে হয় না,” গোলাপি ঘোমটার আড়াল থেকে বলে ওঠেন তিনি।
কেন? বিমলার ভাঙা ভাঙা হিন্দি কোনোরকমে বুঝে নিলেও তাঁর যুক্তিটা বোধগম্য হয় না আমার।
“এখানকার জলে সোডিয়াম ক্লোরাইড অর্থাৎ লবণের পরিমাণ অনেক বেশি,” পাশ থেকে যোগ করেন আমার বন্ধু, বছর ২৭-এর পুষ্পা চৌহান - সম্পর্কে বিমলার ননদ এবং আজকে আমার দোভাষী। “জল ব্যবহার করলে পাত্রে দাগ থেকে যায়। এখানকার জল বড্ড ভারী আর খারা [লবণাক্ত]।”
বিশ্বের নবম বৃহত্তম উপক্রান্তীয় মরুভূমিতে স্বাগত। এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জল নোনতা হওয়ার পিছনে এক ভৌগোলিক কারণ রয়েছে। এখানে বৃষ্টির চেয়ে জলের বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার হার অনেক বেশি। হাজার হাজার বছর ধরে চলতে থাকা এই প্রক্রিয়ার ফলেই এখানকার মাটি ও জলে লবণ ও খনিজ জমা হয়। ভারতের গুজরাট, রাজস্থান এবং সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানের পঞ্জাব ও সিন্ধ প্রদেশ জুড়ে এই বিশাল মরুভূমির বিস্তার।
এই মরুভূমির বুকেই, রাজস্থানের সদ্য গঠিত (২০২৩) ফালোদি জেলার দায়া কোর গ্রাম। সেই গ্রামেরই এক প্রান্তে বিমলার বাড়ি। নিজের বাড়ির ঠিক বাইরেই উবু হয়ে বসে বাসন মাজতে দেখা গেল ৩২ বছরের বিমলা দেবীকে।












