

Kolhapur, Maharashtra
|TUE, MAY 13, 2025
জীবন-জীবিকার দড়াবাজিতে টলোমলো ছোট্ট লক্ষ্মী
পারির স্বেচ্ছাকর্মী সংকেত জৈন স্থির করেছেন সমগ্র ভারতবর্ষের অন্তত তিনশটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন: গ্রামীণ জীবনের যে কোনও ঘটনা বা দৃশ্যকে ঘিরে একটি আলোকচিত্র তুলবেন এবং তারপর সেই আলোকচিত্রটির থেকে একটি স্কেচ তৈরি করবেন। পারির উপর এই সিরিজের এটি তৃতীয় প্রয়াস। স্লাইডারটি কোনও একটি দিকে টানলে আলোকচিত্রটি অথবা স্কেচটি সম্পূর্ণ দেখতে পাওয়া যাবে
Author
Editor
Translator
পারির স্বেচ্ছাকর্মী সংকেত জৈন স্থির করেছেন সমগ্র ভারতবর্ষের অন্তত তিনশটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন: গ্রামীণ জীবনের যে কোনও ঘটনা বা দৃশ্যকে ঘিরে একটি আলোকচিত্র তুলবেন এবং তারপর সেই আলোকচিত্রটির থেকে একটি স্কেচ তৈরি করবেন। পারির উপর এই সিরিজের এটি তৃতীয় প্রয়াস। স্লাইডারটি কোনও একটি দিকে টানলে আলোকচিত্রটি অথবা স্কেচটি সম্পূর্ণ দেখতে পাওয়া যাবে
“আমি হাসতে জানি না,” গম্ভীর মুখে বলল বছর এগারোর লক্ষ্মী প্রসাদ। ছত্তিশগড়ের বারগাঁও গ্রামের এক পথশিল্পী সে। এই স্কেচ ও আলোকচিত্রে যে ছোট্ট মেয়েটার ছায়ামূর্তি দেখা যাচ্ছে, সে-ই লক্ষ্মী। নট সম্প্রদায়ের মানুষ। ওস্তাদ দড়াবাজদের জন্য নামডাক আছে এই দলিত গোষ্ঠীর। দর্শকদের আমোদের খাতিরে, দু'হাতে একটা কাঠের লাঠি ব্যালেন্স করতে করতে দুটো খুঁটিতে বাঁধা দড়ির ওপর হেঁটে খেলা দেখান শিল্পীরা। সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ ফুট লম্বা দড়িটা মাটি থেকে কমপক্ষে ৮-১০ ফুট উঁচুতে বাঁধা থাকে। পেট চালানোর তাগিদে মোটে বছর আটেকের দড়াবাজেরাও নানান রাজ্যের গ্রামে-গঞ্জে খেলা দেখাতে বেরিয়ে পড়ে, ঠাঁইনাড়া হয়ে পাড়ি জমায় দূরদূরান্তে। ছত্তিশগড়ের জঞ্জঙ্গির-চম্পা জেলার পামগড় ব্লকে লক্ষ্মীদের গাঁ। কিন্তু তার পরিবার ভিটে ছেড়ে না হোক ১০০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ উজিয়ে এসেছিল মহারাষ্ট্রের কোলাপুর আর সাঙ্গলি জেলা জুড়ে খেলা দেখাবে বলে। কোলাপুরেরই ইচলকরঞ্জির উপকণ্ঠে ক্যামেরা ধরেছিলাম লক্ষ্মীর এই ছবিখানা।
হাসি পাওয়ার মতো মেয়েটার আছেই বা কী? তার সাধের যে শিল্পকলাটি এক কালে গ্রামে-গঞ্জে হাজার মানুষের বিনোদন জোগাত, তারও আজ পড়তির দশা। কারণ একাধিক। অন্যান্য ধরনের বিনোদনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তো আছেই, তার ওপর তরুণ প্রজন্মও আলাদা আলাদা কামধান্দার চেষ্টা দেখতে আগ্রহী আজকাল।
লক্ষ্মীকে দিনে অন্তত বার ছয়েক এই ঝুঁকির কসরত দেখাতেই হয়, ৪৫-৬০ মিনিট ধরে চলে একেকটা খেলা। দর্শকদের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর ভরসা করে যে নামমাত্র রোজগারটুকু হয়, তাতে আরও মুষড়ে পড়ে খুদে শিল্পীটি। "প্রাণ হাতে করে খেল দেখানোর পরেও পয়সার জন্য ভিখ মাগতে হয়। এক টাকা থেকে দশ টাকার মধ্যে একটা কিছু ধরিয়ে দেয় দর্শকেরা, তাতে সবমিলিয়ে দিনে ৪০০ টাকাও ওঠে না," অনুযোগ ফোটে তার গলায়।
লক্ষ্মীর বাবা ৩৬ বছরের ভগবত প্রসাদের হিসেব অনুযায়ী, আন্দাজ ২৩০০ জনসংখ্যার বারগাঁও গ্রামে ট্র্যাপিজ খেলা দেখানো শিল্পীদের সংখ্যাটা টেনেটুনে কুড়িও হবে না এখন। “আগে ঘরে-ঘরে অন্তত একজন করে নট শিল্পী থাকত। আজকাল গাঁয়ে এই খেল দেখাতে পয়সাই বা দেয় কে? সেজন্যই তো প্রতি বছর ভিটেমাটি ছেড়ে, হাজার কিলোমিটারেরও বেশি রাস্তা উজিয়ে মহারাষ্ট্রে এসে হাজির হই। আর উপায় কী, বলুন?"
অনুবাদ: সানুরাগ গুপ্ত
অনুবাদ সম্পাদনা: রম্যাণি ব্যানার্জী
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
Donate to PARI
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/walking-a-livelihood-tightrope---literally-bn

