মা-বাবার মেজ সন্তান রাজকুমার (১৩) সেদিন বাড়ির পাঁচ ছাগলকে চরাতে নিয়ে গিয়েছিল। অধিকাংশ দিনই ছাগলগুলোর দায়িত্ব তাকে সামলাতে হত। চরাতে চরাতে বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্পের কাছে আকছার পৌঁছে যেত সে, ভিটে থেকে মেরেকেটে এক কিলোমিটারের পথ হবে।
ঠিক এমনই একদিন সে গিয়েছিল ছাগল চরাতে। তারিখটা ছিল ১৪ মে, ২০২২। কিন্তু সেদিন রাজকুমার বাঘের (প্যান্থেরা টাইগ্রিস) খপ্পরে পড়ে যায়। পথচলতি এক মুসাফির বাঘের হামলা দেখে দৌড়ে খবর দিতে যান গাঁয়ে। ছোট্ট রাজকুমারের নিথর দেহটা ২৫ কিলোমিটার দূর বাগাহার মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
“বাঘটা ওর ডানহাত, পিঠ আর পেট খেয়ে ফেলেছিল,” ভয়াবহ সে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন চন্দাবতী দেবী।
অরণ্য, পরিবেশ ও জলবায়ূ পরিবর্তন মন্ত্রক বলছে, বন্যপ্রাণীর হানায় কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে (২০২৩ সালের ডিসেম্বরের আগে ক্ষতিপূরণ ছিল ৫ লক্ষ টাকা)। তবে নিয়মটা কেবল সংরক্ষিত অরণ্যের আশপাশে বসবাসকারী মানুষদের জন্যই খাটে, জঙ্গলের কোর বা অন্দরমহলের ক্ষেত্রে নয় — যেখানে বাকি বাঘ-সহ অন্যান্য জীবজন্তুর বাস। কোর অঞ্চলে মানুষের গতিবিধি কড়াভাবে নিষিদ্ধ। বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভের (ভিটিআর) কোর এলাকা ৫৯৮.৪৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত, আর সেটা ঘিরে ছড়িয়ে আছে ৩০০.৯৩ বর্গকিলোমিটারের বাফার জোন।
“কোর এরিয়ায় সীমানা বরাবর কোনও বেড়া-টেড়া বা নির্দেশক নেই। তাই, স্থানীয় বাসিন্দারা জানেনই না যে জঙ্গলের এই কোর এলাকা কোত্থেকে শুরু হচ্ছে,” টাইগার ট্র্যাকার (যাঁরা বাঘের গতিবিধি অনুসরণ করে ফেরেন) জুনাইদ বললেন, যিনি প্রায় তিন দশক ধরে বাল্মীকি অভয়ারণ্যে কর্মরত, “লোকে ভুলবশত কোর অঞ্চলে ঢুকে পড়ে।”
রাজকুমারের বাড়ির লোকের বক্তব্য, বাঘটি তার দেহ টানতে টানতে কোর এরিয়ায় চলে গিয়েছিল। আর এটাই ছিল যত ফ্যাসাদের গোড়া। “বনদফতরের বাবুরা আমায় বলেন যে খোকার বডিটা নাকি কোর এলাকা থেকে উদ্ধার হয়েছে,” লক্ষ্মণ জানালেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় চাদ্দিকে আমার ছেলেটার ফটো আর ভিডিও [জঙ্গলের কোর এলাকায়] ছড়িয়ে পড়ে, তাই আমি ক্ষতিপূরণ পাচ্ছি না।”