“ছেলেছোকরারা সব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। ওষুধ-টষুধ খাচ্ছিল। আমার কিচ্ছু হয়নি। আমি হেঁটেই যাছিলাম,” বুক ফুলিয়ে বলেন কমলি।
ওয়ারলি জনজাতির আদিবাসী কমলি সেই চল্লিশ হাজার কৃষকের অন্যতম, যাঁরা নাসিক থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছেছিলেন মুম্বই — ২০১৮-র মার্চ মাসে সেই ঐতিহাসিক লং মার্চে অংশ নিয়ে পেরিয়েছিলেন ১৮০ কিলোমিটার পথ। কমলির মতো এই সব অমায়িক অথচ সংগ্রামী কৃষকদের ঋজু প্রতিরোধ রাজ্য সরকারকে বাধ্য করেছিল তাঁদের সমস্ত প্রধান প্রধান দাবিদাওয়া মেনে নিতে।
দু'মাস পর, মে মাসের তিন তারিখ, কমলি ফের নামলেন রাস্তায়; এবার দাহানুতে, 'নির্ধার মার্চে' (সংকল্প যাত্রা) পা মেলাতে। মার্চ মাসে সংঘটিত মোর্চার মতো এই মিছিলেরও আহ্বায়ক ছিল সারা ভারত কিষাণ সভা (এআইকেএস)। সরকার যাতে প্রতিশ্রুতি পূরণ করে তা সুনিশ্চিত করার জন্য নিজেদের অবিচল অবস্থানটা বুঝিয়ে দিতে এই ডাক দেওয়া হয়। মিছিলে সামিল হয়েছিলেন প্রায় ৩৫ হাজার আদিবাসী কৃষক। দুপুরের কাঠফাটা রোদ মাথায় করে সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হেঁটেছিলেন কমলিও। নিবিষ্ট চিত্তে শুনেছিলেন কিষাণ সভার নেতৃত্বদের বক্তব্য — দীর্ঘ পদযাত্রার মাধ্যমে কী কী অধিকার তাঁরা অর্জন করতে পেরেছেন এবং আগামী দিনে এই সংগ্রাম তাঁরা কীভাবে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন, সেইসব।
বিপ্লবী কমলি বাবু বহোতা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছেন লড়াইয়ের ময়দানে। অল ইন্ডিয়া ডেমোক্র্যাটিক উইমেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (এআইডিডব্লিউএ) থানে-পালঘর জেলা বিভাগের সদস্য কমলি, পালঘরের দাহানু তালুকের চরোতি নাকার নিকটবর্তী অভলভেদা জনপদের বাসিন্দা। দশকের পর দশক ধরে তিনি অংশ নিয়ে চলেছেন বহু কৃষক আন্দোলনে। এমনকি, নিউ দিল্লিতে কিষাণ সভার দুটি বড়োসড়ো বিক্ষোভেও (২০১২ ও ২০১৫ সালে) সামিল হয়েছিলেন তিনি৷



