বৃষ্টির ধরনও পাল্টাচ্ছে। “তিরিশ বচ্ছর এখানেই আছি, এরকম বৃষ্টি কখনও দেখিনি। একেবারে ঝেঁপে আসে ঘন বর্ষা, থামতেই চায় না। প্রতিবার এরকম বৃষ্টি দেখে মালিনের ভয়াবহতা মনে পড়ে যায়।”
তাঁদের আশঙ্কা অমূলক নয়। গরম বাড়তে থাকলে বাতাসে বেশি করে জলীয় বাষ্প জমা হতে থাকে। “বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণ পাল্টেছে। আগে মাস তিনেক ধরে বৃষ্টি হত। এখন দু হপ্তার বেশি তার দেখা মেলে না” বলছিলেন পুণের গোখলে ইনস্টিটিউটের সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ড. গুরুদাস নালকর। তিনিই জানালেন বৃষ্টিপাতের পরিবর্তনের ধরন এবং পাহাড়ের গা জুড়ে চলতে থাকা বেলাগাম নির্মাণ কাজের জেরেই বেড়ে চলেছে ধসের আশঙ্কা। (পড়ুন: থানের বর্ষা একেবারে দুর্বৃত্ত হয়ে উঠেছে)
পাসারবাড়ির ঢাল ধরে আরও নিচের দিকটায় থাকেন ফাসাবাইয়ের পড়শি জাওজি বালচিম। নিজের বাড়ির পিছনে পড়ে থাকা বড়ো বড়ো বোল্ডারগুলো দেখাচ্ছিলেন তিনি। কোনওটা তাঁর উরু অব্দি, কোনওটা বা হাঁটু ছাড়িয়েছে। “গত বছর উপর থেকে গড়িয়ে এসেছে এই পাথরগুলো,” বললেন আশি বছরের কৃষক জাওজি। “ছোটো নুড়ি পাথর গাছপালায় আটকে যায়, আর এইরকম বড়ো পাথরগুলো গড়িয়ে নেমে আসে। এখনও অব্দি কারুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেয়নি, এই রক্ষে।”
পাসারবাড়ির ইট আর মাটির গড়া হালকা কুঁড়েঘরগুলিকে মালিনের গুঁড়িয়ে যাওয়া বাড়িগুলোর প্রতিচ্ছবি বলেই মনে হয়। এখানে বসবাসকারী পরিবারগুলি কাঠের বেড়ার ঠেকনা দিয়েই কোনও মতে আটকে রেখেছেন পাহাড় থেকে পড়তে থাকা পাথরগুলোকে। মালিন গাঁয়ের দুর্ঘটনার একদশক পরেও এর থেকে বেশি, এর থেকে পোক্ত কোনও পরিকাঠামো কপালে জোটেনি তাঁদের।
“আগে তো এরকম ছিল না। যবে থেকে এই রাস্তা তৈরি শুরু হয়েছে, তবের থেকেই ধসতে শুরু করেছে এই পাহাড়,” জাওজি বলছিলেন। “ওরা খালি মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে স্তূপ করে রাখে। আজন্মকাল এখানেই থেকেছি আমরা। এখন আর নিজের ঘরের মধ্যেও স্বস্তিতে থাকতে পারি না আমরা।” নিজেদের এক গুণ্ঠা জমিতে (০.০২৫ একর) জাওজি আর তাঁর স্ত্রী যমুনাবাই প্রায় ২-৩ কুইন্টাল ধান ফলান ফি বছর। এর সঙ্গে খেতমজুরি করে আর পুণে থেকে ছেলেদের পাঠানো সামান্য কিছু টাকা দিয়ে দিন গুজরান হয় তাঁদের।