“যখন কাঁটাতার দেখলাম, মনে হল সব শেষ… মনে হল, এই জীবনে আর দেশে ফিরতে পারব না। আমার দাদোর দাদো (ঠাকুরদার ঠাকুরদা) এই মুর্শিদাবাদেই থাকতেন। আমরা এখন ভগবানগোলা [ব্লকের] যে গ্রামে থাকি সেটাও আমার নানির গ্রাম।“
বালিয়া হোসেন নগর গ্রামে নিজের বাড়িতে বসে মুর্শিদাবাদ জেলার সঙ্গে তাঁর পরিবারের আজন্মকালের সম্পর্কের খতিয়ান দিচ্ছিলেন বছর ৩৬-এর মেহেবুব শেখ। চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। মাসখানেক আগেই ভয়ঙ্কর এক অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন। দেশের প্রশাসন তাঁকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে দাগিয়ে ঘাড়ধাক্কা দিয়ে সীমার ওপারে চালান করেছিল।
“আমার ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবই আছে। গায়ে গতরে খেটে জমিও কিনেছি। তারপরেও আমি বাংলাদেশি হই কেমন করে?” জানতে চান মেহেবুব, পেশাগত পরিচয়ে তিনি পরিযায়ী শ্রমিক।
মেহেবুবের মতোই এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন তাঁর জেলাতুতো আরও হাজার হাজার দেশান্তরি শ্রমিকেরা। তাঁদের কেউ নির্মাণশ্রমিক, কেউ গৃহশ্রমিক, কেউ ফেরিওয়ালা, কেউ বা হকার। হঠাৎ নেমে আসা অস্তিত্বের সংকটে জেরবার দিন আনি দিন খাই এই মজুরদের ঠিক ঠাহর হচ্ছে না কেন মুর্শিদাবাদের বাংলাভাষী মুসলমান পরিযায়ী শ্রমিকেরা ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।



















