তিনি কাজে বুঁদ হয়ে থাকবেন আর লোকে যেতে-আসতে সারাটাক্ষণ সে দৃশ্যের ছবি আর ভিডিও তোলার আবদার জুড়বে। ব্যাপারটায় এখন বিলক্ষণ অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন পঞ্চাশের কোঠার নবীন কুমার টামটা। উত্তরাখণ্ডের এই আলমোড়ায় তাম্রকার হিসেবে তাঁর ভারি নামডাক, তামার তৈরি শিল্পকাজ বা গেরস্থালির জিনিসপত্রের ওপর হাতুড়ি ঠুকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নকশা কুঁদে তোলেন তিনি।
লোকে বলে, কতশত বছর আগে নাকি রাজস্থান থেকে হিমালয়ের এই কুমায়ুন অঞ্চলে এসে হাজির হয়েছিলেন একদল তাম্রকার। প্রথমটায় লোহাঘাটের গোসনি গাঁয়ের কাছে থিতু হন তাঁরা। পরে যখন রাজ্যের রাজধানী চম্পাবৎ থেকে সরিয়ে আলমোড়ায় আনা হল, কয়েকটি পরিবার ফের চলে এল এইখানে। এই তাম্রশিল্পীদেরই সুদীর্ঘ বংশধারার উত্তরাধিকার বয়ে নিয়ে চলেছে টামটা সম্প্রদায়।
অনেকদিন পর্যন্ত তামার কাজ পরিবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। "সবাই হাসি-মশকরা-গপ্পগুজব করে বেড়াত। রেষারেষি চলত বটে। তবে সেই তাগিদেই সবাই আরও ভালো কাজ করত," বলেন কারিগর প্রদীপ টামটা।
গোটা প্রক্রিয়াটার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জুড়ে থাকতেন মেয়েরা। কাছের জঙ্গল থেকে চুল্লিতে দেওয়ার কাঠকুটো কুড়িয়ে আনতেন, তৈরি জিনিসগুলো পালিশ করতেন, চুল্লির পাখা ঘুরিয়ে দিতেন দরকারমাফিক, ঢালাইয়ের জন্য ধাতব চূর্ণ বানিয়ে দিতেন সযত্নে। রাঁধাবাড়া আর পরিবারের দেখভালের ফাঁকে ফাঁকে নকশা খোদাই কিংবা হাতুড়ি মারার আগে ধাতব চাদর গরম করে নেওয়ার মতো সূক্ষ্ম মাপনির্ভর কাজগুলোও করতেন অনেকে।































