গাভীদের এখন শুধু দুধের জন্যই রাখা হয়। আর কাঙ্গায়ম প্রজাতির মধ্যে সেই উৎপাদনের হার কম হওয়ায়, এখন তাদের বদলে আনা হচ্ছে এমন প্রজাতির গাভী, যারা এই স্থানীয় আবহাওয়া, এই গাছপালার সঙ্গে মানিয়ে উঠতে না পেরে নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। সেই কারণেই তাদের জন্য, চড়া দামে উপযোগী খাবার, অ্যান্টিবায়োটিক ও ঘনঘন ডাক্তারি তত্ত্বাবধান আবশ্যক হয়ে উঠেছে। কোনও মতে এত কিছুর পরেও টিকে গেলে, বাদ সাধে গোশালায় কড়া রোদ। এত কিছু জেনেও কিছু কৃষক তাতেই রাজি - তার জন্য গোশালার খোলনোলচে বদলে দিতে হলেও সই! দুধ বেচে যে স্বল্পমেয়াদি মুনাফার হাতছানি, তার সামনে একটা গোটা প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি বিপদও যে গৌণ।
সেদিন সন্ধে বাড়লে, আমরা দেখলাম সেই নতুন ষাঁড়টিকে হাঁটিয়ে আনা হচ্ছে। দুজন শক্তপোক্ত শ্রমিক মিলে তাকে দড়ি দিয়ে কষে বেঁধে রেখেছেন। এসব কান্ডকারখানা দেখে মনে হচ্ছিল, উল্টে বরং ষাঁড়টাই ওঁদের টেনে টেনে হাঁটাচ্ছে! কার্তিকেয় এই নবাগত ষাঁড়কে ধাতস্থ করার অছিলায়, বুল্লি বয়ের গা ঘষে দিচ্ছিলেন। হঠাৎ এক তামিল প্রবাদ মনে করে বললেন, ষাঁড় প্রতিপালনের মানে বুঝলেন তো, যাকে বলে একদিকে উদরের পুষ্টি, অন্যদিকে গায়ে হাত বুলিয়ে স্নেহবৃষ্টি। এর পর আমায় ডেকে বললেন, আসুন বুল্লি বয়ের গায়ে একটু হাত বুলিয়ে দিন! আমি ধীরে ধীরে সেই বিশালাকায় জন্তুর কাছে গিয়ে তার উষ্ণ পিঠে হাত রাখলাম। এক মিনিট হতে না হতেই, হয়তো আমার দুরু দুরু বক্ষের আন্দাজ পেয়ে, বাছাধন হঠাৎ নড়ে উঠে মাথা ঘুরিয়ে আমার দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল। ক্লান্ত চোখদুটোর মধ্যে কোথাও যেন পুরোনো দুষ্টুমির ঝিলিক। না বাবা, বুল্লি বয়ের জন্য কুণ্ডভিই যথেষ্ট, এই ভেবে আমি মানে মানে সরে পড়লাম। এর চেয়ে খামারের ছোট্ট কুকুরছানাই আমার ঢের ভালো।