ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্যে ছিল এই দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের অবদান। আর ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কয়েকটা অভ্যুত্থানের পুরোভাগে ছিলেন মূলত গ্রামীণ ভারতের বাসিন্দারা।
অথচ আমাদের অনেকেরই এই অসামান্য স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ব্যাপারে প্রায় কিছুই জানা নেই – তাঁদের মধ্যে নারী মুক্তিযোদ্ধারা তো পুরোই ব্রাত্য! অথচ এঁদের সকলের সমবেত প্রচেষ্টা ছাড়া ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে পরাধীন ভারতের মুক্তি সম্ভব ছিল না।
পারি পডকাস্টের এই পর্বে, পারির প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক পি. সাইনাথ বলেছেন তাঁর সাংবাদিক-জীবনের সবচাইতে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতার কথা – ২০০২ সালে ওড়িশার বারগড় জেলার পাইকমল ব্লকের পুরেনা গ্রামে সেই যেবার তাঁর সাক্ষাৎ হল দেমাথি দেই শবরের সঙ্গে।
তৎকালীন ওড়িশার নুয়াপাড়া জেলা থেকে আসা আদিবাসী মেয়ে দেমাথিকে ‘সালিহান’ বলেই চিনত সবাই। ১৯৩০ সালে এক গনগনে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন তিনি। সালিহা গাঁয়ে তাঁদের ভিটের সামনেই তাঁর বাবাকে (ব্রিটিশ-বিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার ‘দায়ে’) গুলি করেছিল যে ব্রিটিশ অফিসাররা, পত্রপাঠ তাঁদের তাড়িয়ে ছেড়েছিলেন দেমাথি। হাতে অস্ত্র বলতে ছিল কেবল লাঠি। তাই নিয়েই নিজের সইদের সঙ্গে ষোড়শী সালিহান ঐ আক্রমণকারীদের ওপর চড়াও হন, তাদের এলাকা ছাড়া করেন সটান। তাঁর কথায়,“ওরা আমাদের ঘর-বাড়ি,ফসল – সব ছারখার করে দিয়েছিল। তারপর বাবার ওপর হামলা করল। উচিত শিক্ষা না দিলে চলে!”


